রাজ্য – বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংসদীয় রণকৌশল ঠিক করতে কালীঘাটে জরুরি বৈঠকে বসলেন Mamata Banerjee। লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের নিয়ে হওয়া এই বৈঠকে মূল নিশানায় ছিল Bharatiya Janata Party এবং Election Commission of India। বর্তমানে লোকসভায় All India Trinamool Congress-এর সাংসদ সংখ্যা ২৮ এবং রাজ্যসভায় রয়েছে ১৩ জন প্রতিনিধি।
বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, দেশে এখন ‘সুপার এমার্জেন্সি’র মতো পরিস্থিতি চলছে। তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে গণনা—সব ক্ষেত্রেই বিরোধীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ২০২৯ সালে বিজেপির পরাজয়ের ভবিষ্যদ্বাণীও করেন।
এ দিনের বৈঠকে শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী Kalyan Banerjee-কে প্রকাশ্যে অভিনন্দন জানান তৃণমূল নেত্রী। মমতা বলেন, “আমরা একটা ভাল লড়াই লড়েছি। বিজেপি ১০০ জন আইনজীবী নিয়ে হাজির ছিল। আদালতের ভিতরেও স্লোগান দেওয়া হয়েছে।” কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিজেপির এক প্রবীণ আইনজীবী আদালত কক্ষে স্লোগান দেওয়া শুরু করেছিলেন, যা নজিরবিহীন ঘটনা। তাঁর দাবি, এসবই হয়েছে Suvendu Adhikari-র নির্দেশে।
পাল্টা মমতা অভিযোগ করেন, গণনার দিন তাঁর এজেন্টদেরও হেনস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি ওদের মুখোশ খুলে দিতে চেয়েছিলাম। পরিস্থিতি সুপার এমার্জেন্সির মতো ছিল।”
বৈঠকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বক্তব্য রাখেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল শুধু বিজেপির বিরুদ্ধে নয়, কেন্দ্রের গোটা প্রশাসনিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অভিষেকের দাবি, গণনার দিন Central Armed Police Forces জওয়ানরা তৃণমূলের এজেন্টদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীদের পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া হয় এবং ছিঁড়েও ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, মানুষের ভোট ‘লুঠ’ করা হয়েছে এবং একদিন সেই সত্য প্রকাশ্যে আসবে। পাশাপাশি ইভিএম কারচুপির অভিযোগও তোলে দল। অভিষেকের দাবি, ইভিএম এবং ১৭-সি ফর্মের হিসেবের মধ্যে গরমিল ছিল। এমনকি বহু ইভিএম মেশিনের ব্যাটারি ৯০ শতাংশেরও বেশি চার্জড দেখাচ্ছিল, যা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তৃণমূলের আরও দাবি, বিজেপির কিছু কর্মী নাকি সিআরপিএফের পোশাক পরে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি এজেন্টদের মনোবল ভাঙার উদ্দেশ্যে গণনার তৃতীয় রাউন্ড থেকেই বিজেপিকে ২০০-র বেশি আসনে এগিয়ে দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।
ভবানীপুরেও ডিআইসিও প্রতিনিধিদের ঢুকতে না দেওয়া এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে অতীতেও দল কঠিন সময় দেখেছে উল্লেখ করে কর্মীদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের ফল মেনে নিলেও রাজনৈতিক লড়াই যে এখনও শেষ হয়নি, কালীঘাটের বৈঠক থেকে সেই স্পষ্ট বার্তাই দিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।




















