রাজ্য – পুজোর মরশুমের আগে মদের বাজারে সরবরাহ ও ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রেশন নিয়ে একাধিক নতুন নিয়ম চালু করছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বেভারেজেস কর্পোরেশন (WBSBCL)। ৩ সেপ্টেম্বরের প্রি-বিড বৈঠকে জানানো হয়েছে, নতুন লাইসেন্স থাকলেও ১ অক্টোবর থেকে সব ব্র্যান্ডকে ফের নথিভুক্ত হতে হবে। দাম অপরিবর্তিত থাকলেও নতুন করে ‘কস্ট কার্ড’ তৈরি করতে হবে। পুরনো রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে নতুন মরশুমে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে না।
নতুন EOI-এর আওতায় নির্বাচিত বিদেশি মদ, বিয়ার এবং ইন্ডিয়া মেড লিকার (IML)-এর ক্ষেত্রে ১ অক্টোবর থেকেই নতুন রেজিস্ট্রেশন কার্যকর হবে। প্রতি বছর ন্যূনতম এম ডিস্টিলারি প্রাইস বা EDP-র ভিত্তিতে প্রস্তুতকারক সংস্থা বাছাই করা হবে এবং সেই দামের উপর ভিত্তি করেই রাজ্যের কর কাঠামো নির্ধারিত হবে। তবে আবগারি দফতরের একাংশের মতে, এই পরিবর্তনের জেরে পুজোর আগে মদের দামে বড়সড় বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা কম। যদিও দামি মদের ক্ষেত্রে সামান্য পরিবর্তন হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুরনো MRP-র স্টক বিক্রির ক্ষেত্রে অবশ্য কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। বর্তমান লেবেল রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ যতদিন থাকবে, ততদিন সেই স্টক বাজারে বিক্রি করা যাবে। পুজোর সময়ে যাতে সরবরাহে কোনও ঘাটতি না হয়, সে জন্য প্রস্তুতকারকদের মসৃণ জোগান নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে IMC বা ‘ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট কস্ট’ কোনওভাবেই EDP-র ১০ শতাংশের বেশি করা যাবে না। ঘোষিত দামকে রাজ্যের আবগারি আইন মেনে চলার পাশাপাশি ৩০ জুন ২০২৬-এর হিসাবে দেশের সর্বনিম্ন EDP/DP-র সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
ব্র্যান্ড মালিকদের আবেদন প্রক্রিয়াতেও কড়া নিয়ম রাখা হয়েছে। একাধিক সংস্থা বা ব্র্যান্ড মালিক যৌথভাবে একটি বিড করতে পারবেন না; প্রত্যেককে আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে। তথ্য গোপন, ভুল তথ্য বা বিকৃত তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমস্ত পণ্যই অযোগ্য ঘোষিত হতে পারে। EOI জমা দিতে হবে শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের টেন্ডার পোর্টালে এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর করা নথি নির্দিষ্ট চারটি ফোল্ডারে আপলোড করতে হবে। ট্রেডমার্ক, অনুমতিপত্র, EMD, আবগারি লাইসেন্স, GST, PAN-সহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। নতুন ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে উৎপাদন বা বোতলজাতকরণ কেন্দ্রের সম্পূর্ণ তথ্যও দিতে হবে। রাজ্যের বাইরে তৈরি নতুন ব্র্যান্ডের জন্য নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে গত এক বছরে দেশের কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অন্তত ১০ হাজার কেস বিক্রির প্রমাণও চাওয়া হয়েছে।




















