হুগলি
পুজোর মুখে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু। সংক্রমণ রুখতে রাজ্যজুড়ে প্রশাসনের তরফে একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও হুগলিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২০। জেলার পোলবা-দাদপুর ব্লকের মহানাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিস্থিতি বিশেষভাবে নজরে এসেছে প্রশাসনের। স্থানীয় সূত্রের খবর, মহানাদ গ্রামেই এখনও পর্যন্ত ৩৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মহানাদে বিশেষ স্বাস্থ্য শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জ্বর দীর্ঘদিন ধরে না কমলে রক্ত পরীক্ষা করানো হচ্ছে। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। হুগলি জেলা প্রশাসনের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর মধ্যে পোলবা এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রও রয়েছে।
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পোলবা-দাদপুর ব্লকের বিডিও-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা মহানাদ এলাকায় পৌঁছন। প্রশাসনের নজরে এসেছে, মহানাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের আরমালা ও নগরপাড়া এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। এবার মশার লার্ভার উৎস চিহ্নিত করতে এলাকায় ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জমে থাকা জল, জঙ্গল ও অপরিচ্ছন্ন জায়গা দ্রুত পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু মহানাদ নয়, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গোটা রাজ্যেই বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বাড়ি বা আশপাশে জল জমতে না দেওয়া, পরিত্যক্ত পাত্র বা খাবারের খোসায় জল জমে থাকতে না দেওয়া, জলের ট্যাঙ্ক ঢাকা দিয়ে রাখা এবং রাস্তা-ঘাট ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে বারবার সতর্ক করছে প্রশাসন। হুগলি জেলা প্রশাসনের তরফেও ডেঙ্গু-সহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে ভেক্টর কন্ট্রোল সংক্রান্ত সচেতনতা ও নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে।
এর মধ্যেই হুগলিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫২০-তে পৌঁছনোয় পুজোর আগে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি মশার লার্ভার উৎস খুঁজে বের করে দ্রুত তা নষ্ট করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মহানাদে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভিযান কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের।



















