রাজ্য – মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার পাহাড় সফরে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কার্শিয়াং সফরে গিয়ে তিনি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক বৈঠকও করবেন। পাহাড়ের বর্তমান পরিস্থিতি, উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ কার্শিয়াংয়ের গোথেল মেমোরিয়াল স্কুলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। সেখানে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেবেন তিনি। অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত-সহ একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা বিতরণের কর্মসূচি রয়েছে।
সরকারি অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রশাসনিক বৈঠকেও অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড়ের উন্নয়ন, পরিকাঠামো, প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক মহলেও এই সফরকে ঘিরে কৌতূহল তুঙ্গে। কার্শিয়াংয়ে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। সেই বৈঠকে দার্জিলিংয়ের সাংসদ এবং পাহাড়ের তিন বিজেপি বিধায়কের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে পাহাড় রাজনীতির দুই গুরুত্বপূর্ণ মুখ, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং এবং সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, সফর ও বৈঠক সম্পর্কে তাঁদের অবগত করা হয়েছে, তবে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সোমবার থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। নিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কার্শিয়াং ও দার্জিলিংয়ের একাধিক এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পাহাড়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমস্যার সমাধানে বর্তমান সরকারের উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে এই সফর। অন্যদিকে জিএনএলএফের পাহাড় শাখার দাবি, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করার এটাই উপযুক্ত সময়। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক শক্তির সরকার থাকায় পাহাড়ের বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও বেড়েছে বলে তাদের মত।
তবে মঙ্গলবারের কর্মসূচি শেষ করেই মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় ফিরে আসবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তা সত্ত্বেও তাঁর প্রথম পাহাড় সফর ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের নজর এখন কার্শিয়াংয়ের দিকেই।




















