কলকাতা – রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদল ও দলীয় ভাঙনের আবহে এবার কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় খালি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই ভবনের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই মালিকপক্ষের দখলে চলে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে কালীঘাটের কার্যালয় ছাড়া কলকাতায় তৃণমূলের আর কোনও প্রধান সংগঠনিক কার্যালয় থাকবে না বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরেই ভবন খালি করার কাজ ধাপে ধাপে চলছিল। মঙ্গলবার ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলা খালি করার কাজ শুরু হয়। ওই তলাগুলি থেকে ব্যানার, পোস্টার, চেয়ার-টেবিল এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি করেন ভবনের মালিক মন্টু সাহার ছেলে অমিত সাহা এবং তাঁর স্ত্রী।
পরিবারের দাবি, ভবনের প্রথম তিনটি তলাই আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীকালে চতুর্থ ও পঞ্চম তলাতেও দলীয় কাজকর্ম চলতে শুরু করে। মঙ্গলবার মন্টু সাহা তাঁর পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ভবনে যান এবং সেখানে উপস্থিত থেকে খালি করার কাজ পর্যবেক্ষণ করেন।
২০২২ সালে মেট্রোপলিটন বাইপাস সংলগ্ন এই ভবনটি দলীয় সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ওই বছরের মে মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে পুজো ও যজ্ঞের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এখান থেকে দলীয় কাজ শুরু হয়। আধুনিক পরিকাঠামো, লিফট, বৈঠক কক্ষ, সিসিটিভি নজরদারি এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ভবনটি তৃণমূলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল।
মালিকপক্ষের দাবি, ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভবনটি ভাড়ার চুক্তির আওতায় ছিল। এরপর মৌখিক সমঝোতার ভিত্তিতে আরও কয়েক মাস ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমাও শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন ভবনটি সম্পূর্ণভাবে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশের দাবি, ভবনের ভাড়া চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে এবং চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বৈধ রয়েছে। এই সংক্রান্ত তথ্য স্থানীয় থানাকেও জানানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি। পাশাপাশি মালিকপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
চুক্তি ও দখল সংক্রান্ত এই মতবিরোধের মধ্যেই ভবনের একটি অংশ খালি করার কাজ শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই ভবন সম্পূর্ণ খালি করা হবে কি না এবং বিষয়টি আইনি জটিলতার দিকে গড়ায় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।




















