দেশ – ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে Government of India। মূল লক্ষ্য, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাশ করানো। যদিও এই ইস্যুতে শুরু থেকেই সরব বিরোধী শিবির। INDIA Alliance জানিয়েছে, মহিলা সংরক্ষণ বিলে নীতিগত সমর্থন থাকলেও সরকার যেভাবে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে, তার বিরোধিতা করা হবে। পাশাপাশি জনগণনার আগে আসন পুনর্বিন্যাসের বিরুদ্ধেও একজোট হয়েছে বিরোধীরা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সংসদে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল, যেখানে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়। সেই সময় বিরোধীরাও বিলটিকে সমর্থন করেছিল। তবে বিলে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাস করে তবেই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। কিন্তু এখন নরেন্দ্র মোদি-র সরকার ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে দ্রুত পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে, যা নিয়েই আপত্তি তুলেছে বিরোধীরা।
এই বিশেষ অধিবেশনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আনার প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্র—সংবিধানের ১৩১-তম সংশোধনী বিল, আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। তবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে শুধু সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যথেষ্ট নয়; উপস্থিত সাংসদদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। অর্থাৎ লোকসভায় সব সদস্য উপস্থিত থাকলে ৩৬২ ভোট দরকার হবে, যা এই মুহূর্তে National Democratic Alliance-এর কাছে নেই। বর্তমানে এনডিএ-র সাংসদ সংখ্যা প্রায় ২৯৩, ফলে আরও প্রায় ৭০ জন সাংসদের সমর্থন জোগাড় করা বড় চ্যালেঞ্জ।
রাজ্যসভাতেও একই পরিস্থিতি। সেখানে বিল পাশ করাতে ১৬৪ ভোট প্রয়োজন হলেও এনডিএ-র হাতে রয়েছে প্রায় ১৪১ জন সাংসদ। ফলে অতিরিক্ত সমর্থন ছাড়া এই বিল পাশ করানো কঠিন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। যদি বিরোধী শিবিরের বহু সাংসদ ভোটাভুটির সময় অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে সংখ্যার সমীকরণ বদলে যেতে পারে এবং সরকার বিল পাশ করিয়ে নিতে সক্ষম হতে পারে। অতীতে এমন নজির রয়েছে। আবার মহিলা সংরক্ষণ বিলে সরাসরি বিরোধিতা করলে বিরোধীদের ‘মহিলা বিরোধী’ তকমা পাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে, বিশেষ করে বাংলা ও তামিলনাড়ুর নির্বাচনের আগে।
অন্যদিকে সরকার পক্ষের দাবি, সংবিধান সংশোধন কেবল মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার জন্য প্রয়োজন, আসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতাই যথেষ্ট। যদিও এই ব্যাখ্যা নিয়েও রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।
সব মিলিয়ে বিশেষ অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।




















