উত্তর 24 পরগণা – দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ফের ‘অ্যাকশন মোডে’ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধিক মামলায় সক্রিয় হয়েছে এই কেন্দ্রীয় সংস্থা। কখনও বাড়ি বা অফিসে গিয়ে তল্লাশি, আবার কখনও সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ—এভাবেই চলছে একের পর এক অভিযান।
আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ রয়েছে। তার আগেই শনিবার সকাল থেকে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার একাধিক এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক চাল ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তাও ছিল।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, একটি আর্থিক তছরুপ সংক্রান্ত মামলার ভিত্তিতেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। শনিবার ভোরে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে ইডির একাধিক দল কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে হাবড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে সাতসকালে হানা দেওয়ায় প্রথমে বাড়ির বাইরে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় ইডি আধিকারিকদের। পরে দীর্ঘ ডাকাডাকির পর দরজা খোলা হলে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করা হয়।
ইডি সূত্রের দাবি, একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শুরুতে কোনও সাড়া মেলেনি। পরে বাড়ির দরজা খোলার পর ভিতরে প্রবেশ করে অভিযান চালানো হয়। ভোটের মুখে এই ধরনের তৎপরতাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
দিন কয়েক ধরেই রাজ্যজুড়ে ইডির একের পর এক তল্লাশি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীকেও তলব করেছে ইডি। কেউ সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছেন, আবার কেউ নির্বাচনী প্রচারের কারণে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন।
এর আগে কলকাতার একাধিক স্থানে একযোগে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সল্টলেকের বিভিন্ন ব্লক এবং মিডলটন স্ট্রিটে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর বাড়িতেও অভিযান হয়েছিল। অন্যদিকে, গত সপ্তাহে কলকাতায় আয়কর দফতরও একাধিক তল্লাশি চালায়।
এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে হাবড়ায় চাল ব্যবসায়ীদের বাড়িতে ইডির এই হঠাৎ অভিযান নতুন করে রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে।


















