দিল্লী – যুদ্ধ, বাণিজ্যিক টানাপোড়েন এবং ভূ-রাজনৈতিক বিভাজনের আবহে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন ভারতের জন্য ছিল বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ অবস্থানের মধ্যে জোটটিকে যাতে সরাসরি ‘মার্কিন-বিরোধী’ মঞ্চে পরিণত না হতে হয়, সেদিকেও ছিল নয়াদিল্লির নজর। তার উপর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে সদস্য দেশগুলির অবস্থান ছিল পরস্পরবিরোধী। এর আগে ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ না হওয়ায় নেতাদের সম্মেলনেও ঐকমত্য নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল।
তবে সেই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর সর্বসম্মতিক্রমে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ গ্রহণ করেন ব্রিকস নেতারা। ভারতের অন্যতম সাফল্য ছিল পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার নিন্দায় সম্মিলিত সমর্থন আদায় করা। একইসঙ্গে ব্রিকসের মূল কর্মসূচিকে কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরোধিতার মঞ্চ না করে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক স্বার্থের দিকে কেন্দ্রীভূত রাখতেও নয়াদিল্লি সক্ষম হয়েছে। অর্থনীতিবিদ তথা কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফরি স্যাকসও সম্মেলনকে সফল বলে উল্লেখ করে বলেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত ঐকমত্য গড়ে তোলার সক্ষমতা দেখিয়েছে।
ব্রিকসের ভিতরের বৈচিত্র্যও ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ সদস্যের জোট ২০২৫-এর মধ্যে বেড়ে ১১ সদস্যে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রত্যেক দেশের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ ও অবস্থানের মধ্যে ফারাক আরও বেড়েছে। তার মধ্যেও সম্মেলনের আগের দিন এবং সম্মেলনের দুই দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে মোট ১৫টি আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। ফলে বহুপাক্ষিক সম্মেলনের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিতেও সক্রিয় ছিল নয়াদিল্লি।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায় ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ক্ষেত্রে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে দুই দেশের অবস্থান কার্যত বিপরীত ছিল এবং মে মাসের ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে সেই মতপার্থক্যের প্রভাব পড়েছিল। কিন্তু দিল্লি সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যে সংযমের আহ্বান জানানো বিবৃতিতে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী উভয়েই স্বাক্ষর করে। এরপর সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের বৈঠকও হয়। সংঘাত শুরুর পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আলোচনার পথ খোলা রাখার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির মঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।




















