কাকদ্বীপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা
রাজ্যে একটিও কাঁচা বাড়ি থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে উপভোক্তাদের পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে সভা থেকে এমনই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের দ্রুত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা CAA-র শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়েও নির্দেশ দেন তিনি। সভা থেকে আগের সরকারকে নিশানা করেও একাধিক অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
আবাস যোজনায় বাড়ি নিয়ে বড় ঘোষণা
কাকদ্বীপের সভায় শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় গোটা রাজ্যে ৫৪ লক্ষ বাড়ির তালিকা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় পরিদর্শনের কাজও সম্পূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জেলায় আগের তালিকায় প্রায় ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩১৮টি বাড়ি ছিল। নতুন করে আরও ৪ লক্ষ ৮১ হাজার ২৪২টি বাড়ি তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। এরপরই তাঁর ঘোষণা, “কোনও কাঁচা বাড়ি থাকবে না।”
আগের সরকারকে নিশানা
আবাস যোজনায় বাড়ি বণ্টন নিয়ে আগের সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আগের সরকারের আমলে বহু যোগ্য উপভোক্তা বাড়ি পাননি, অথচ প্রভাবশালীরা সুবিধা পেয়েছেন। গোয়ালঘর দেখিয়ে নেতারা বাড়ি নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বাড়ি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার আবাস যোজনার সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করবে।
তিনি বলেন, “আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন। এ সরকার রাষ্ট্রবাদী সরকার। এ সরকার আপনাদেরকে আবাস যোজনায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কাজ করবে।”
কাকদ্বীপে বারবার আসার প্রসঙ্গ
সভায় নিজের কাকদ্বীপ সফরের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, অতীতে একাধিকবার এই এলাকায় আসার সময় তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। পুজোর আগে ও ভোটের আগে কপিল মুনির আশ্রমে যাওয়া এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ২০২৫ সালে কালীপুজোর দিন আসার সময় আক্রান্ত হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
আবাস যোজনায় পাকা বাড়ি তৈরি এবং বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের CAA-র শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়টি ঘিরে কাকদ্বীপের সভায় একাধিক ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে বাড়ি তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ও শংসাপত্র প্রদানের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রশাসনিকভাবে বিস্তারিত তথ্য সামনে এলে এই ঘোষণাগুলির বাস্তবায়ন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।




















