দেশ – আগামী ২০ মে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। All India Organisation of Chemists and Druggists সর্বভারতীয় ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সংগঠনের দাবি, ওই দিন প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ওষুধের দোকান বন্ধ থাকতে পারে, যদিও এটি ১২ ঘণ্টার প্রতীকী কর্মসূচি।
ধর্মঘটের মূল উদ্দেশ্য অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন ফার্মেসি ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। সংগঠনের অভিযোগ, অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ওষুধ বিক্রি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, যার ফলে রোগীর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওষুধ বিক্রি হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
এআইওসিডি-র তিনটি প্রধান দাবি সামনে এসেছে—অনলাইনে ওষুধ বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করা, বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলির ‘ডিপ ডিসকাউন্ট’ বা অতিরিক্ত ছাড়ের উপর কঠোর আইন প্রয়োগ, এবং ভেজাল ও নকল ওষুধ রুখতে ড্রাগ কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপ।
সংগঠনের মতে, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও কর্পোরেট চেইনের আগ্রাসনে ছোট ও মাঝারি ওষুধ ব্যবসায়ীরা চরম সঙ্কটে পড়েছেন। পাশাপাশি ‘প্রিডেটরি প্রাইসিং’-এর মাধ্যমে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই ধর্মঘটের প্রভাব পড়তে পারে West Bengal-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। পশ্চিমবঙ্গের Bengal Chemists and Druggists Association-এর একাংশও এই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ওষুধ কোনও সাধারণ পণ্য নয়, এটি সরাসরি মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত।
তবে এই ঘোষণায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘমেয়াদি অসুখে ভুগছেন বা নিয়মিত ওষুধের উপর নির্ভরশীল। যদিও জরুরি পরিষেবার জন্য কিছু দোকান খোলা থাকতে পারে, তবুও সামগ্রিকভাবে পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখা উচিত, যাতে আকস্মিক সমস্যার মুখে না পড়তে হয়।




















