কলকাতা
ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজে গতি আনছে রাজ্য সরকার। নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এবার সেই কাজেই আরও অগ্রগতি হয়েছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্য সরকার সীমান্তবর্তী এলাকায় বেড়া তৈরির জন্য বিএসএফকে ১,১৭৭.১ একর জমি হস্তান্তর করেছে বলে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের তথ্য উদ্ধৃত করে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ২,২১৬.৭ কিলোমিটার। কেন্দ্রীয় সরকারের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, তার মধ্যে প্রায় ১,৬৪৭.৭ কিলোমিটার অংশে ইতিমধ্যেই বেড়া রয়েছে। বাকি অংশের মধ্যে কিছু এলাকা ভৌগোলিক কারণে বেড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যাজনক হলেও প্রায় ৪৫৬ কিলোমিটার অংশকে কার্যকরভাবে বেড়া নির্মাণের উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
এখন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী ৯টি জেলার বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় জমি হস্তান্তরের কাজ চলছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১,১৭৭.১ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে জমি কেনার জন্য ১,২৭০.৩ একর অর্থ বরাদ্দ করা হলেও প্রায় ৯৩.১ একর জমি এখনও হস্তান্তর করা বাকি রয়েছে। ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর এবং দার্জিলিংয়ে জমি হস্তান্তরের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলা ধরে দেখলে, মুর্শিদাবাদে ৩৬২.৮ একর, উত্তর ২৪ পরগনায় ২৪৩.৭ একর এবং মালদহে ২৪৭.৭ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। নদিয়ায় দেওয়া হয়েছে ১১৩.৩ একর। অন্যদিকে কোচবিহারে ১৬৫.৪ একর জমি হস্তান্তর হলেও আরও ৪৪.৮ একর জমি দেওয়া বাকি রয়েছে, যা জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবশিষ্ট জমি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর নিয়ে এর আগে আদালতেও বিষয়টি উঠেছিল। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কলকাতা হাই কোর্ট ইতিমধ্যে অধিগৃহীত এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়ে যাওয়া জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের নথিতে ৯টি সীমান্তবর্তী জেলায় মোট ১২৭.৩২৭ কিলোমিটার অংশের জমি তখনও পুরোপুরি হস্তান্তর না হওয়ার তথ্য উঠে এসেছিল।
এরপর নতুন রাজ্য সরকার সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফকে দ্রুত দেওয়া হবে। মে মাসে তিনি ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও জানিয়েছিলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিএসএফ ও এসএসবির জন্য ১,১২৯ একর জমি দেওয়া হয়েছে।
ফলে এখন নজর রয়েছে বাকি জমি হস্তান্তরের দিকে। সীমান্তের যে অংশগুলিতে এখনও জমি সংগ্রহ বা হস্তান্তরের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি, সেই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য জেলা প্রশাসনগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জমি হাতে এলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া ও সীমান্ত পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে বিএসএফ।



















