ধর্মতলার পাঁচ দিনের ধর্না শেষ, বিচারের দরজা এখন খোলা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ধর্মতলার পাঁচ দিনের ধর্না শেষ, বিচারের দরজা এখন খোলা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – এসআইআর-এ বিচার পাওয়ার লড়াইয়ে ধর্মতলায় টানা পাঁচ দিনের অবস্থান আজ শেষ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee Dharna)। তবে ধর্না তোলার আগে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিচারের দরজা এখন খোলা। উপস্থিত নেতা-কর্মী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) মতামত নিয়ে নেত্রী মন্তব্য করেছেন, এই লড়াই কেবল ভোটের জন্য নয়, অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও বটে।
ধর্মতলায় বক্তৃতার শুরুতেই মমতা ফিরে যান সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের দিনগুলিতে। তিনি বলেন, “আমি দরকার হলে ৫০ দিনও থাকতে পারি। এখানে সিঙ্গুরের জন্য ২৬ দিন অনশন করেছিলাম। দেখুন, ইতিহাস কেমন মিলিয়ে দিয়েছে। সিঙ্গুরে যে লোকটা জোর করে চাষিদের জমি কেড়ে নিয়েছিলেন, আজ সেই লোকটাকেই নির্বাচন কমিশন বড় পদে বসিয়ে পাঠিয়েছে।” নাম না করে কমিশনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে কাঠগড়ায় দাঁড় করান তিনি।
ধর্নাস্থলে মাইক-বক্স বাজিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন মমতা। তিনি বলেন, “এই ক’দিন আপনাদের ব্যস্ত করেছি, কান ঝালাপালা হয়েছে। আমারও সারা রাত শব্দে কান ঝালাপালা হয়েছে। কিন্তু ওটা বড় কথা নয়, লড়াইটাই আসল।” এরপর অভিষেকের প্রস্তাব মেনে উপস্থিত সকলের সম্মতিতে ধর্না তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
রাজনৈতিক ভাষণের মাঝেই আধ্যাত্মিক ছোঁয়া দিয়েছেন মমতা। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “দেখলাম মা কালীও আমাদের সঙ্গ দিলেন। মায়ের আশীর্বাদ থেকে কেউ কেউ বঞ্চিত হলেন। মা-ও মানবিকতা ও মনুষ্যত্বকে ভালোবাসেন। সকলকে নিয়ে একসঙ্গে বাস করাই আসল ধর্ম।”
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের জয়যাত্রা যেমন ধর্মতলা থেকে শুরু হয়েছিল, তেমনই ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের লড়াইও এই ধর্নামঞ্চ থেকেই নতুন দিশা পেয়েছে। ধর্নার মাধ্যমে নেত্রী ভোটারদের মনে বার্তা দিয়েছেন, ইতিহাসের চাকা ঘোরে এবং তার পুনরাবৃত্তি অনিবার্য।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top