রাজ্য – মেয়ের মৃত্যুর বিচার চাওয়ার দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এবার সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামার সিদ্ধান্ত নিলেন ‘অভয়ার মা’। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব এলেও শেষ পর্যন্ত ভারতীয় জনতা পার্টি-র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে লড়বেন। তাঁর কথায়, প্রথমে মানসিকভাবে প্রস্তুত না থাকলেও শেষ পর্যন্ত সাহস সঞ্চয় করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে অভয়ার বাবা-মা স্পষ্ট করে দেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য এখনও মেয়ের মৃত্যুর বিচার পাওয়া। তবে সেই লড়াইকে আরও জোরদার করতেই এবার নির্বাচনের ময়দানে নামার সিদ্ধান্ত। ‘অভয়ার মা’-র দাবি, নারী সুরক্ষার প্রশ্নে বিজেপির উপরই তাঁর আস্থা তৈরি হয়েছে, তাই এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই তিনি নিজের লড়াই চালিয়ে যেতে চান।
তিনি আরও জানান, শুরু থেকেই একাধিক রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। অনেক ভাবনা-চিন্তার পর শেষ মুহূর্তে বিজেপির হয়ে প্রার্থী হওয়ার সম্মতি দেন তিনি।
একইসঙ্গে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস-এর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকারের আমলে সাধারণ মানুষ নিরাপদ নয় এবং সেই কারণেই এই সরকারকে সরানোর লড়াইয়ে তিনি সামিল হয়েছেন।
অন্যদিকে, অভয়ার বাবা বাম দলগুলির বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা চাননি মেয়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনীতি হোক, কিন্তু বাস্তবে সেটাই হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের নামে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং বামপন্থীরা প্রকৃত বিচার পাওয়ার পথে সহযোগিতা না করে উল্টে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর একে একে রাজনৈতিক দলগুলি প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করছে। ভারতীয় জনতা পার্টি ইতিমধ্যেই প্রথম দফায় ১৪৪ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে, যেখানে একাধিক চমক রয়েছে।
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর এই সিদ্ধান্তের প্রভাবের দিকে। ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিকে পেছনে রেখে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামা—এই নতুন সমীকরণ ভোটের অঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলবে, তার উত্তর মিলবে ফলাফল ঘোষণার দিনই।




















