রাজ্য – উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম-এ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র সহকারী চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই জেলাজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোলতলা ও চৌমাথার মাঝামাঝি দোহারিয়া এলাকায় চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর জখম হয়েছেন গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা।
ঘটনার তদন্তে নেমেছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সিআইডি আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছেন। রাতেই এলাকায় পৌঁছন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁরা নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান।
অন্যদিকে, পানিহাটি-তেও নতুন করে অশান্তির ঘটনা সামনে এসেছে। সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের কাছে ভয়াবহ বোমাবাজির ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচজন বিজেপি সমর্থক। অভিযোগ, পানিহাটির ২ নম্বর ওয়ার্ডের দত্ত রোডে বিজেপি কর্মীরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় মোটরবাইকে করে এসে একদল দুষ্কৃতী তাঁদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে। আহতদের দ্রুত আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলটি স্থানীয় বিধায়কের বাড়ির খুব কাছেই বলে জানা গিয়েছে। বিজেপির দাবি, হামলার পিছনে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা রয়েছে। যদিও শাসক দল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ঘটনার পর কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে খড়দহ থানা-র পুলিশ এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
জেলার অন্য প্রান্ত বসিরহাট-এও রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি কর্মী রোহিত রায় ওরফে চিন্টু গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে খবর। একের পর এক গুলি ও বোমাবাজির ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নতুন করে যাতে কোনও উত্তেজনা না ছড়ায়, সেজন্য বিভিন্ন এলাকায় কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।




















