রাজ্য – ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদলের পর ফের মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিজেপির হাত ধরে দীর্ঘদিন পর আবারও ঐতিহাসিক লালবাড়িতে ফিরতে চলেছে সরকারের সচিবালয়। ইতিমধ্যেই রাইটার্সে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। তবে সংস্কার পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর অস্থায়ী সচিবালয় তৈরি হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা চত্বরে।
২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শপথ গ্রহণের পর রাজভবন থেকে হেঁটেই তিনি মহাকরণে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু দু’বছরের মধ্যেই লালবাড়ি ছেড়ে নীল-সাদা রঙে সাজানো নবান্ন-কে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় হিসেবে গড়ে তোলা হয়। গত ১৫ বছর ধরে সেখান থেকেই চলেছে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ।
তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর সেই প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। শনিবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের পর থেকেই শুরু হবে নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়। নবান্নের পরিবর্তে আবারও রাইটার্স বিল্ডিংকে সক্রিয় সরকারি দপ্তর হিসেবে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, রাজ্যের পূর্ত দপ্তরের তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যেই রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের বড় অংশ এখনও সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত নয়। তবে অন্তত ২৮টি ঘর ব্যবহারের উপযুক্ত করে তোলার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে পুরো সংস্কার শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কাজ চলবে বিধানসভা থেকেই। জানা গিয়েছে, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ঘরেই বসবেন বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি পাশের প্ল্যাটিনাম জুবিলি বিল্ডিং-এ তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী সচিবালয়।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, জরুরি প্রয়োজন হলে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী অথবা সম্ভাব্য উপমুখ্যমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ ঘরও মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। সব মিলিয়ে, বাংলার প্রশাসনিক মানচিত্রে ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।




















