রাজ্য – নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের পর মঙ্গলবার নবান্ন থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তাতে জানানো হয়েছে, গত বিধানসভা, পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনের সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর সেই অশান্তি ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল, যা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
এই প্রেক্ষিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা সমস্ত জেলার নির্বাচনী আধিকারিকদের স্পর্শকাতর বুথগুলি সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি জেলা পুলিশের সুপার ও কমিশনারদেরও ওই এলাকাগুলি ঘুরে দেখার কথা বলা হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই এই পরিদর্শন সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, চিহ্নিত বুথগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালাতে হবে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ও জেলা পুলিশের সুপারদের মোবাইল ফোন ও স্যাটেলাইট ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। স্পর্শকাতর এলাকাগুলি ঘুরে এসে আগামী বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে নবান্নে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। এর আগেও প্রতিটি থানাভিত্তিক দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। প্রথমবার সেই নির্দেশ যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়ায়, পুনরায় তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়াও এলাকাভিত্তিক রাজনৈতিক ‘রাউডি’ নেতাদের চিহ্নিত করে তাদের তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, সেগুলি দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবারও একই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।




















