দেশ – ভোটের আগে আবারও বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে মহিলা সংরক্ষণ বিল। সংসদের বিশেষ অধিবেশন শুরুর আগেই এই বিষয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের, যার মধ্যে অন্যতম এই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার প্রস্তাব।
বিশেষ অধিবেশনের আগে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের নারীশক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই বিল একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হতে চলেছে। তিনি লেখেন, দেশের মা-বোনেদের সম্মান দেওয়া মানেই দেশের প্রতি সম্মান জানানো, এবং সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে সরকার এগোচ্ছে। পাশাপাশি নারীদের আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী ভূমিকা নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
এই বিশেষ অধিবেশনে মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আনার কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংবিধানের ১৩১-তম সংশোধনী বিল, আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। তবে এর মধ্যেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই বিল ঘিরে আপত্তি তুলেছে বিরোধী শিবির। তাদের বক্তব্য, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই যদি ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা হয়, তবে তারা সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবে। কিন্তু এর আড়ালে যদি লোকসভা আসন সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকে, তাহলে তা মানা হবে না।
বুধবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে-র বাসভবনে বৈঠকে বসেন বিরোধী দলগুলির সংসদীয় নেতারা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে বর্তমান ৫৪৩টি লোকসভা আসন অপরিবর্তিত রেখে সংরক্ষণ চালু করা হলে সমস্যা নেই। তবে যদি আসন সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ করার চেষ্টা হয়, তাহলে সংসদে তার তীব্র বিরোধিতা করা হবে বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মহিলা সংরক্ষণ বিল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে। বিশেষ অধিবেশনে এই ইস্যু ঘিরে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




















