রাজ্য – আগামী ৪ মে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতে চলেছে, আর তার আগেই রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে পশ্চিমবঙ্গে। কার্যত গোটা রাজ্যই এখন ফলাফলের দিকে তাকিয়ে প্রহর গুনছে। কে বসবে বাংলার মসনদে, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে গণনার দিনেই।
এই পরিস্থিতিতে ঘর সামলাতে সক্রিয় হয়েছে বিজেপি শিবির। শনিবার বিকেলে আসানসোলের একটি তিনতারা হোটেলে পুরুলিয়া বিভাগের চারটি সাংগঠনিক জেলা—বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, আসানসোল ও পুরুলিয়া—এর প্রার্থীদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে পদ্ম শিবির। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল এবং রাজ্য পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব সহ শীর্ষ নেতৃত্ব।
বৈঠকে মূলত ভোট গণনা কেন্দ্রের ভিতরে কীভাবে এজেন্টরা কাজ করবেন, সেই বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। আসানসোল দক্ষিণের প্রার্থী ও বিজেপি রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি অগ্নিমিত্রা পাল জানান, এটি কেবল একটি নির্বাচন নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক লড়াই। তাঁর দাবি, গণনা প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করাই তাদের মূল লক্ষ্য এবং সেই জন্যই একটি ‘ফুলপ্রুফ মেকানিজম’ তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এক্সিট পোলের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করলেও মাঠ পর্যায়ের ফিডব্যাক অনুযায়ী বিজেপি সরকার গঠন করবে বলে তাঁরা নিশ্চিত। তাঁর বক্তব্য, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।”
বৈঠকে বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি তথা সিউড়ির প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে গণনা কেন্দ্রে কারচুপির চেষ্টা করতে পারে, সেই কারণে সতর্কতা হিসেবে এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বৈঠকে মোট ২৮ জন প্রার্থী ছাড়াও প্রতিটি জেলার পাঁচজন করে গুরুত্বপূর্ণ কার্যকর্তা ও পোলিং এজেন্ট উপস্থিত ছিলেন। গণনা কেন্দ্রের প্রতিটি ধাপে নজরদারি বজায় রাখতে কীভাবে সংগঠনকে সক্রিয় রাখা হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট ময়দানের লড়াই শেষ হলেও এখন আসল যুদ্ধ শুরু গণনা কেন্দ্রকে ঘিরে। ফলে ফল প্রকাশের আগেই রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে।




















