দেশ – পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আমেরিকা–ইরান উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বেড়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত কূটনৈতিকভাবে সাফল্যের পরিচয় দিচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪৫ হাজার টন এলপিজি বহনকারী বিশাল সুপারট্যাঙ্কার ‘সর্ব শক্তি’ বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর সংবেদনশীল অঞ্চল অতিক্রম করার চেষ্টা করছে। এটি নিরাপদে ভারতীয় উপকূলে পৌঁছাতে পারলে দেশের রান্নার গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় স্বস্তি মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারী দেশ এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি ব্যবহারকারী দেশ হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রভাব সরাসরি দেশীয় বাজারে পড়েছে। ফলে রান্নার গ্যাসের ঘাটতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছিল। এই অবস্থায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন Indian Oil Corporation বিপুল পরিমাণ এলপিজি কার্গো সংগ্রহ করেছে বলে জানা গিয়েছে।
এই জটিল পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে একাধিক এলপিজি জাহাজকে নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত এখন পর্যন্ত কয়েকটি গ্যাসবাহী জাহাজ নিরাপদে দেশে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে ইলেকট্রনিক জ্যামিং, রাডার বিভ্রান্তি এবং জাহাজ চলাচলে বাধার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এর আগেও কয়েকটি ভারতগামী ট্যাঙ্কারকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানা যায়।
বর্তমানে ‘সর্ব শক্তি’ নামের এই ট্যাঙ্কারটি ওমান উপসাগরের দিকে এগোচ্ছে এবং যাত্রাপথটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী Hardeep Singh Puri জানিয়েছেন, এই সংকট মোকাবিলায় দেশের অভ্যন্তরীণ এলপিজি উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দরে এলপিজি ট্যাঙ্কারের দ্রুত নোঙর ও খালাসকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে স্থিতিশীল থাকে, সেই লক্ষ্যেই কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।




















