রাজ্য – ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে থাকা মোট ২৮৫টি বুথেই আগামী ২১ মে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গণনার ঠিক আগে এমন সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। শনিবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে তিনি কেন্দ্র সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, কোনও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রই তাঁর ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর ক্ষতি করতে পারবে না।
নিজের পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘বাংলা-বিরোধী গুজরাটি গ্যাং’ এবং নির্বাচন কমিশনের একজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করেন। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে কেন্দ্র সরকার চাইলে ফলতায় যেকোনো বড় রাজনৈতিক নেতাকে প্রার্থী হিসেবে নামাতে পারে, তবুও ফলের পরিবর্তন হবে না। তাঁর বক্তব্যে এই নির্বাচনকে তিনি সরাসরি ‘স্নায়ুর লড়াই’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের সময় ফলতার কয়েকটি বুথে অশান্তি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে শাসক দল Trinamool Congress। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পর্যবেক্ষক থাকা সত্ত্বেও কেন অনিয়ম রোধ করা যায়নি।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২১ মে পুনর্নির্বাচনের পর ২৪ মে ফলতা কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হবে। তবে রাজ্যের বাকি আসনগুলোর গণনা যথারীতি নির্ধারিত সময়েই হবে।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। শাসক ও বিরোধী দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগে সরব হয়েছে। ফলে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।




















