কলকাতা – আর মাত্র দু’দিনের অপেক্ষা। তারপরই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলার প্রশাসনিক ক্ষমতা যাবে বিজেপির হাতে। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রাজ্যের নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর। অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে গোটা ব্রিগেড চত্বর।
নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে কলকাতা পুলিশ। বুধবার এই নিয়ে লালবাজার-এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে। সূত্রের খবর, ব্রিগেডের নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হচ্ছে প্রায় চার হাজার পুলিশকর্মী। নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে গোটা ব্রিগেড ময়দানকে ভাগ করা হয়েছে ৩০টি পৃথক সেক্টরে।
প্রত্যেকটি সেক্টরের দায়িত্বে থাকবেন একজন করে ডেপুটি কমিশনার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন একাধিক ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর, এএসআই এবং কনস্টেবল। পরিস্থিতি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও মোতায়েন করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকিতে থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং যুগ্ম পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিকরা।
সূত্রের খবর, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চেই উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এছাড়াও ওড়িশা, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, বিহার এবং অসম-সহ একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন। ফলে মূল মঞ্চ এবং ভিভিআইপি জোনের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
ব্রিগেডে বসানো হবে একাধিক ডোর ফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর এবং পুলিশকর্মীদের হাতে থাকবে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর। কেউ যাতে বেআইনি অস্ত্র নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য কড়া তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও ময়দানের আশপাশের বহুতলগুলির ছাদ থেকে বাইনোকুলার নিয়ে নজরদারি চালানো হবে। পুরো এলাকা জুড়ে বসানো হবে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোথায় কোথায় গাড়ি পার্ক করা যাবে তা নিয়েও বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হবে। পাশাপাশি শনিবার ব্রিগেড সংলগ্ন বিভিন্ন রাস্তায় যানজট এড়াতে প্রয়োজন অনুযায়ী ট্র্যাফিক ডাইভারশনও করা হতে পারে।
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ঘিরে কলকাতার ব্রিগেডে এখন তুঙ্গে প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।




















