ঝাড়গ্রাম – জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম বিধানসভার বিধায়ক লক্ষীকান্ত সাউ বুধবার ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। হাসপাতালের সামগ্রিক পরিষেবা, বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সমস্যার খোঁজখবর নিতেই তাঁর এই সফর বলে জানা গিয়েছে। পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের এমএসভিপি পরিতোষ পাখিরা-র সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন।
হাসপাতালকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ওঠা একাধিক অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয় তাঁদের মধ্যে। পরিষেবার মান, রোগী পরিষেবা এবং পরিকাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখেন বিধায়ক। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডেও যান। সেখানে লোধাশুলির এক বিজেপি কর্মীর বাবা, দুর্ঘটনায় মৃত মহেন্দ্র মাহাতোর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান। মৃতের ছেলেকে সান্ত্বনা দিয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে বিধায়ক লক্ষীকান্ত সাউ বলেন, নির্বাচনের সময় তিনি মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এই হাসপাতালকে আরও উন্নত পরিষেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার। সেই লক্ষ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী উপস্থিতি, রোগীদের খাবারের গুণগত মান এবং আধুনিক পরিষেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি তিনি জানান, দলের কর্মীর পরিবারের এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানো তাঁর দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতেও তিনি সহযোগিতা করে যাবেন।
অন্যদিকে, বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে গোপীবল্লভপুর এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির গোপীবল্লভপুর ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি গৌতম পৈড়া দাবি করেন, এলাকায় সাম্প্রতিক হিংসা ও অশান্তির ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই।
তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বি-টিম’-এর কিছু ব্যক্তি বিজেপির নাম ব্যবহার করে এলাকায় সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি একটি আদর্শ রাজনৈতিক দল এবং তারা কোনওভাবেই হিংসা বা সন্ত্রাসকে সমর্থন করে না। নির্বাচনে জয়-পরাজয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ারই অংশ, তবে তার নামে এলাকায় অশান্তি ছড়ানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গৌতম পৈড়া জানান, কোথাও যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে ইতিমধ্যেই অবহিত করা হয়েছে। যারা এলাকায় হিংসা, দখলদারি বা সন্ত্রাস চালাচ্ছে, তারা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সকলকে শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করার আহ্বানও জানান বিজেপি নেতৃত্ব।



















