বেলজিয়ামকে রুখে অঘটনের স্বপ্ন, শেষ মুহূর্তে সালাহদের হতাশা

বেলজিয়ামকে রুখে অঘটনের স্বপ্ন, শেষ মুহূর্তে সালাহদের হতাশা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



খেলা – চলতি বিশ্বকাপের বয়স মাত্র চার দিন। আর তার মধ্যেই দেখা গিয়েছে একের পর এক অঘটন। নেদারল্যান্ডসকে আটকে দিয়ে এশিয়ার উত্থানের বার্তা দিয়েছে জাপান। মরক্কোর বিরুদ্ধে ড্র করে কোনওক্রমে সম্মান বাঁচিয়েছে ব্রাজিল। আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলের খাতা খুলতেই দেয়নি কেপ ভার্দে। গোলশূন্য ড্র করে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, বিশ্বমঞ্চে কিছুই অসম্ভব নয়।

সোমবার গভীর রাতে সেই তালিকায় আরও একটি চমক যোগ হতে পারত। জন্মদিনে দেশবাসীকে সবচেয়ে বড় উপহার দিতে পারতেন মহম্মদ সালাহ। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বেঞ্চ থেকে নেমে রোমেলু লুকাকুর উপস্থিতি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয় মিশরকে।

২০১৮ বিশ্বকাপে এডেন হ্যাজার্ড ও রোমেলু লুকাকুর হাত ধরে দুরন্ত সাফল্য পেয়েছিল বেলজিয়াম। এবার হ্যাজার্ড দলের সহকারী কোচ। প্রথম একাদশেও ছিলেন না লুকাকু। তবুও থিবো কুর্তোয়া ও কেভিন ডে’ব্রুইনের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে মাঠে নামে বেলজিয়াম। যদিও আগের সেই ধার আর নেই তাদের খেলায়।

শুরুর দিকে বলের দখল বেলজিয়ামের কাছে থাকলেও ধীরে ধীরে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনে মিশর। ২০ মিনিটে রাইট উইং থেকে সালাহর দুরন্ত পাস ধরে নিখুঁত ফিনিশে দলকে এগিয়ে দেন ইমাম আশৌর। ফুটবল পরিবারে জন্ম তাঁর। ছোটবেলায় গজল এল-মহল্লা ক্লাবে বড়দের সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলন করলেও কোচদের অবহেলায় একসময় ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু সেই আশৌরই পরে মিশরের অন্যতম সম্ভাবনাময় প্রতিভা হয়ে ওঠেন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে গোল করে ইতিহাসের অংশ হয়ে যান তিনি। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁর সেই গোল মিশরকে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছিল।

তবে ম্যাচের ৬৫ মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন রোমেলু লুকাকু। স্কোরশিটে গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে মহম্মদ হানির নামে লেখা হলেও, গোটা পরিস্থিতির নেপথ্যে ছিলেন বেলজিয়ান স্ট্রাইকার। দুই ডিফেন্ডারকে সঙ্গে নিয়ে গোলমুখে ঢুকে পড়া লুকাকুকে ঠেকাতে গিয়ে ভুল করে নিজের জালেই বল জড়িয়ে দেন হানি। গত এক বছর ক্লাব ফুটবল না খেললেও লুকাকুর উপস্থিতিই বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরাতে যথেষ্ট ছিল।

চলতি বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচ দেখার পর বিশ্বফুটবলে একটি প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার সঙ্গে কি ধীরে ধীরে ব্যবধান কমিয়ে ফেলছে আফ্রিকা ও এশিয়ার দলগুলি? টুর্নামেন্ট যত এগোবে, সেই প্রশ্নের উত্তর ততই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top