রাজ্য – রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া মিলতে শুরু করেছে বলে দাবি করলেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়। তাঁর বক্তব্য, ইতিমধ্যেই অন্তত ৪২ জন শিল্পপতি রাজ্যে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। নতুন সরকার শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিল্পোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলে আসছে বিজেপি সরকার। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় আগেই জানিয়েছিলেন, রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি অতীতে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে যাওয়া শিল্পগোষ্ঠীগুলিকেও ফেরানোর চেষ্টা করা হবে। টাটা-সহ বিভিন্ন বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি।
তাপস রায়ের দাবি, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীরা রাজ্যে শিল্প স্থাপনের বিষয়ে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছেন। এরই মধ্যে ৪২ জন শিল্পপতি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দেশীয় ও বহিরাগত— উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীরাই রয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, আগামী ২২ জুন পেশ হতে চলা রাজ্য বাজেটে শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হতে পারে। নতুন সরকার শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কী ধরনের নীতি গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন নজর শিল্পমহলের।
বিধানসভা নির্বাচনের সময় রাজ্যের শিল্প ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছিল বিজেপি। ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে দাবি। এই কাজে নীতি আয়োগের সহযোগিতাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
সরকারের মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকার ফলে বা ‘ডবল ইঞ্জিন’ ব্যবস্থার সুবিধায় দ্রুত শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে। সেই কারণেই শিল্পোন্নয়নকে কেন্দ্র করে নতুন রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, তাপস রায় আগের সরকারের সমালোচনা করে দাবি করেছেন, বিভিন্ন কারণে এবং বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশের অভাবে বহু শিল্পপতি পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, শিল্পের বিকাশের পরিবর্তে অন্য বিষয়গুলিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হল সেই আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা।
রাজ্যে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশকারী শিল্পপতিদের এই সংখ্যা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলে আশাবাদী শিল্প দপ্তর। এখন সকলের নজর আগামী বাজেট এবং শিল্পোন্নয়ন সংক্রান্ত সরকারের ঘোষণার দিকে।




















