রাজ্য – উত্তরবঙ্গের চা-বাগানগুলির উন্নয়ন এবং চা-শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার দার্জিলিং সফরে গিয়ে পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তিনি। পাশাপাশি লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য পাহাড়ের মানুষকে ধন্যবাদও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
দার্জিলিংয়ে প্রশাসনিক বৈঠক ও জনসংযোগ কর্মসূচির মধ্যেই পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপের কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি চা শিল্প। তাই চা-বাগানগুলির পুনরুজ্জীবন এবং শ্রমিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে চা-শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়নি। বহু চা-বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি বদলাতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ‘পিএম চা-শ্রমিক যোজনা’ চালু করলেও আগের রাজ্য সরকার তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করেনি। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনিক গাফিলতি ও দুর্নীতির কারণে সেই প্রকল্পের সুফল শ্রমিকদের কাছে পৌঁছায়নি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে বন্ধ থাকা ২৫টি চা-বাগানকে ঘিরে ৩৩৪ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। চা-বাগানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, শ্রমিক কল্যাণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে টি-বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পাহাড়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে বলেন, অতীতে এই অঞ্চল বঞ্চনার শিকার হয়েছে। তাঁর দাবি, পাহাড় ও চা-বাগান এলাকার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে বদ্ধপরিকর।
সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, উত্তরবঙ্গের সব বন্ধ চা-বাগান ধাপে ধাপে পুনরায় চালু করার চেষ্টা করা হবে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, পাহাড়ে শুধু সফর বা পর্যটনের জন্য নয়, উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতেই নিয়মিত আসবেন।
দার্জিলিং থেকে দেওয়া এই বার্তার মাধ্যমে চা-শিল্প পুনরুজ্জীবন, শ্রমিক কল্যাণ এবং পাহাড়ের সামগ্রিক উন্নয়নকে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।




















