‘চোর’ তকমা মেনে নিতে নারাজ প্রসেনজিৎ, ‘অভিমান’ বিতর্কে মুখ খুললেন অভিনেতা

‘চোর’ তকমা মেনে নিতে নারাজ প্রসেনজিৎ, ‘অভিমান’ বিতর্কে মুখ খুললেন অভিনেতা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



বিনোদন – মুক্তির দিনেই বিতর্কের কেন্দ্রে বাংলা ছবি ‘অভিমান’। পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের এই ছবিকে ঘিরে সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে চিত্রনাট্য চুরির জল্পনা। পরিচালক সুমন ঘোষের একটি পোস্ট ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। তাঁর দাবি, বহু আগে তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে একটি চিত্রনাট্য পড়ে শুনিয়েছিলেন, যার সঙ্গে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অভিমান’ ছবির কিছু মিল রয়েছে। যদিও সরাসরি গল্প চুরির অভিযোগ করেননি তিনি। তবুও বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে টলিউড মহলে।

এই পরিস্থিতিতে ছবির প্রিমিয়ারে উপস্থিত হয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে মুখ খুললেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি জানান, সুমন ঘোষ তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ছোট ভাইয়ের মতো। বিতর্ক প্রকাশ্যে আসার আগেই সুমনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে বলেও জানান অভিনেতা।

প্রসেনজিৎ বলেন, সুমন কখনও সরাসরি গল্প বা চিত্রনাট্য চুরির অভিযোগ তোলেননি। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে এবং বিভিন্ন মহলে এমনভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেন ছবির গল্প চুরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, যদি সত্যিই তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ থাকে, তাহলে সুমনের উচিত তাঁর চিত্রনাট্য এবং ‘অভিমান’ ছবিটি নিরপেক্ষভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা। দর্শকরাই বিচার করবেন দুই গল্প বা চরিত্রের মধ্যে আদৌ কোনও মিল রয়েছে কি না।

অভিনেতার কথায়, তিনি কখনও কোনও লেখকের সৃজনশীল কাজ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চান না, কারণ সেটি তাঁর পেশাগত শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। তবে তাঁকে ‘চোর’ আখ্যা দেওয়া তাঁর দীর্ঘ চার দশকের কর্মজীবনের সততা এবং পেশাদারিত্বকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে বলেই মনে করছেন তিনি।

প্রসেনজিৎ আরও জানান, সুমনের অভিমান ভাঙানোর জন্য তিনি নিজে ফোন করেছিলেন। সৃজনশীল মানুষের মধ্যে মতপার্থক্য বা অভিমান থাকতেই পারে, কিন্তু সেই সুযোগে এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়া দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর দাবি, ‘অভিমান’ এবং সুমনের চিত্রনাট্যের মধ্যে কোনও সাদৃশ্য নেই। তবুও বিষয়টি নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।

অভিনেতা বলেন, তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি অসংখ্য পুলিশ অফিসার, চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং অপরাধীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। একজন অভিনেতা হিসেবে বিভিন্ন ধরনের চরিত্র বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা তাঁর রয়েছে। সেই স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়।

প্রসেনজিৎ স্পষ্ট ভাষায় জানান, একজন অভিনেতার কোনও গল্প বা চরিত্রের বৌদ্ধিক সম্পত্তির অধিকার থাকে না। সেই অধিকার থাকে লেখক বা সৃষ্টিকর্তার। অভিনেতার কাজ হল চিত্রনাট্য অনুযায়ী চরিত্রে অভিনয় করা। তিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করেন এবং কোন চরিত্রে অভিনয় করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সুমনের প্রতি তাঁর কোনও রাগ বা ক্ষোভ নেই। বরং তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক আগের মতোই রয়েছে। তবে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার পর তাঁকে ‘চোর’ বলা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। এতে নতুন প্রজন্মের নির্মাতা ও লেখকদের কাছেও ভুল বার্তা পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

‘অভিমান’ বিতর্কে শেষ পর্যন্ত কী সত্য সামনে আসে, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত এই বিতর্ক ঘিরে বাংলা চলচ্চিত্র মহলে আলোচনা তুঙ্গে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top