কলকাতা – দু’দিনের সফরে শনিবার পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন, কৃষি সংক্রান্ত একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সূচনা এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। রাজ্যে আসার আগেই বাংলায় এক্স পোস্ট করে নিজের সফরসূচির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদী জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে হুগলির তারকেশ্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং বাংলার সংস্কৃতি রক্ষায় তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করে তারকেশ্বরকেই উদযাপনের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
তারকেশ্বর থেকেই দেশের কৃষকদের জন্য পিএম-কিষান প্রকল্পের ২৩তম কিস্তির অর্থ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, এগ্রি স্ট্যাক, ন্যাশনাল মিশন অন ন্যাচারাল ফার্মিং এবং প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষি প্রকল্পেরও সূচনা করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের কোটি কোটি কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।
২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন মোদী। একই দিনে কলকাতা বন্দরে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই জাহাজগুলি দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারতের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে দিল্লি থেকে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে কলাইকুণ্ডায় পৌঁছে সেখান থেকে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জে যাবেন। প্রশাসনিক কর্মসূচি শেষ করে দুপুর ২টো ১৫ মিনিটে ফের পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশে রওনা হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় তারকেশ্বরে পৌঁছবেন। পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে থাকার কথা রয়েছে তাঁর। পরে কলকাতায় এসে লোকভবনে রাত্রিযাপন করবেন।
রবিবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ভোর থেকেই রেড রোড এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ও যান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়া যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় কলকাতা বন্দরে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স নির্মিত তিনটি যুদ্ধজাহাজ— আইএনএস দুনগিরি, আইএনএস সংশোধক এবং আইএনএস অগ্রয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করবেন।
কলকাতা বন্দরের অনুষ্ঠান শেষে রেসকোর্স হয়ে সকাল ১১টা নাগাদ বিমানবন্দরে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে দুপুরের মধ্যে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ফলে আগামী দু’দিন রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বিশেষ গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।




















