রাজ্য – বর্ষা মরশুমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নাগরিক পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করে তুলতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের ঘোষণা করল রাজ্যের নগর উন্নয়ন ও পুর দফতর। জল জমা রোধ, ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণ, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে শুরু করে সৌরশক্তিচালিত স্মার্ট বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ— একাধিক পরিকল্পনার কথা শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে জানান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
রাজ্যের সমস্ত পুর এলাকাকে একটি অভিন্ন অভিযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনতে চালু করা হয়েছে নতুন হেল্পলাইন পরিষেবা। আপাতত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পরিষেবা মিললেও ভবিষ্যতে এটিকে ২৪ ঘণ্টার পরিষেবায় রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। জল জমা, ডেঙ্গির উপদ্রব, বেআইনি বহুতল নির্মাণ কিংবা অন্যান্য পুরসভার সমস্যা সরাসরি এই হেল্পলাইনে জানানো যাবে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত পদক্ষেপের জন্য বিশেষ টিম কাজ করবে। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে অভিযোগ ও তার নিষ্পত্তির বিস্তারিত পর্যালোচনা করে রিপোর্টও তৈরি করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ সফর, পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে বৃহৎ পরিচ্ছন্নতা অভিযানও শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চলছে। এই অভিযানে ছাত্রছাত্রী, প্রবীণ নাগরিক এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে সচেতনতামূলক দেওয়ালচিত্র ও গ্রাফিতির মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বর্ষাকালে জল জমার সমস্যা কমাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, গত এক মাস ধরে নালা, খাল ও ড্রেন সংস্কারের কাজ জোরকদমে চলছে। অতিবৃষ্টির পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই ৩৪টি ১০ হর্সপাওয়ারের শক্তিশালী পাম্প ভাড়া নেওয়া হয়েছে। দফতরের নিজস্ব ৩৯টি পাম্পের পাশাপাশি আরও ৫০টি পাম্প জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। পাম্প পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও কর্মীদেরও সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নগর পরিকাঠামোয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে ডিজিটাল হোর্ডিং বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পার্ক স্ট্রিট, ক্যামাক স্ট্রিট এবং থিয়েটার রোডে এই অত্যাধুনিক হোর্ডিং বসানো হবে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি এলাকায় ডিজিটাল স্ক্রিন চালু হয়েছে। এই স্ক্রিনগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং জনসচেতনতামূলক বার্তা সম্প্রচার করা হবে।
এছাড়াও শহরের বাসযাত্রীদের জন্য নতুন প্রজন্মের সৌরশক্তিচালিত স্মার্ট বাসস্ট্যান্ড তৈরির পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছে পুর দফতর। এই বাসস্ট্যান্ডগুলিতে থাকবে মোবাইল চার্জিংয়ের সুবিধা, বাসের ডিজিটাল সময়সূচি এবং আধুনিক নাগরিক পরিষেবার বিভিন্ন সুযোগ। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে শহরের গণপরিবহন পরিকাঠামোকে আরও উন্নত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বর্ষার দুর্ভোগ কমানো এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিক পরিষেবাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের এই নতুন পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।




















