কলকাতা – তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতায় ফেরাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বর। অভিষেকের আগমনের আগেই সেখানে বিক্ষোভে সামিল হন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পাল্টা তৃণমূল সমর্থকরাও বিমানবন্দরে পৌঁছে গেলে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে দু’পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলেও পরে তা ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির রূপ নেয়। বিমানবন্দর চত্বরে কিছু সময়ের জন্য অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার জেরে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর হয় বিমানবন্দর নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৌঁছনোর আগেই নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা শুরু করে।
শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে দিল্লি গিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দলত্যাগী ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ বাতিলের দাবি তোলেন তিনি। শুধু মৌখিক আবেদন নয়, সংশ্লিষ্ট সাংসদদের বিরুদ্ধে পৃথক ২০টি দলত্যাগ বিরোধী আবেদনপত্রও স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
লোকসভা স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়, সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সংবিধান ও আইনের পথেই এই রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে তৃণমূল কংগ্রেস। দলত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের অবস্থানও তিনি স্পষ্ট করেন।
এদিকে অভিষেকের কলকাতায় ফেরার খবর আগেই পৌঁছে গিয়েছিল বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের কাছে। অভিযোগ, তাঁরা ডিম ও আম হাতে নিয়ে বিমানবন্দর চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। সেই সময় সেখানে তৃণমূল সমর্থকদের একাংশও উপস্থিত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় নিরাপত্তাকর্মীদের।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সমস্ত উত্তেজনা ও বিক্ষোভ এড়িয়ে নিরাপদেই নিজের কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাসভবনে পৌঁছে গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে বিমানবন্দর চত্বরে পরিস্থিতিও পরে স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আসে।



















