রাজ্য – হুল দিবস উপলক্ষে বাঁকুড়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জয় জোহার প্রকল্পের আওতায় বয়স্ক আদিবাসীদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধি এবং আদিবাসী পড়ুয়াদের ছাত্রাবাসে থাকা-খাওয়ার ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এতদিন ছাত্রাবাসে থাকা ও খাওয়ার জন্য আদিবাসী পড়ুয়ারা মাসে ১,৮০০ টাকা ভাতা পেতেন। এবার সেই ভাতা বাড়িয়ে ৩,৩০০ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা ও আবাসন সংক্রান্ত ব্যয় মেটাতে আরও বেশি আর্থিক সহায়তা মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে জয় জোহার প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্যও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। এতদিন এই প্রকল্পের আওতায় বয়স্ক আদিবাসীরা প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা ভাতা পেতেন। রাজ্য সরকার সেই ভাতা আরও ৫০০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এবার থেকে প্রত্যেক সুবিধাভোগী মাসে ১,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।
উল্লেখ্য, জয় জোহার প্রকল্প রাজ্যের আদিবাসী কল্যাণ দপ্তরের একটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প। এর মাধ্যমে তপশিলি উপজাতি (এসটি) সম্প্রদায়ের ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণদের মাসিক বার্ধক্য ভাতা প্রদান করা হয়। নতুন ঘোষণার ফলে এই প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সুবিধা আরও বৃদ্ধি পেল।
শুধু ভাতা বৃদ্ধি নয়, আদিবাসী এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছাত্রাবাসের সংস্কার, নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, বিদ্যালয়ে বহুমুখী স্টেডিয়াম গড়ে তোলা এবং খেলাধুলার পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি লোধা-সহ প্রাচীন আদিবাসী গোষ্ঠীর জন্য খাদ্য নিরাপত্তা-সহ একাধিক নতুন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার সুবিধা আগামী আগস্ট মাস থেকে পাওয়া যাবে।
এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল সরকারের আমলে এসটি সার্টিফিকেট ইস্যুতে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন। তাঁর দাবি, ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট প্রদান ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করা হবে। একই সঙ্গে তিনি জঙ্গলমহল ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার উন্নয়নে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান। তাঁর বক্তব্য, আদিবাসী ও মূলবাসী মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে।




















