রাজ্য – ভারতীয় চিকিৎসক দিবস উপলক্ষে দেশের অন্যতম প্রবীণ ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. সুকুমার মুখোপাধ্যায়কে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হল। বুধবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে সম্মান তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
সম্মান গ্রহণের পর ডা. সুকুমার মুখোপাধ্যায় জানান, এই স্বীকৃতি তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও বিনয় তাঁকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকভাবে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন, প্রণাম করেছেন এবং দীর্ঘ চিকিৎসক-জীবনের নানা অভিজ্ঞতা সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন। পতাকা উত্তোলন ও অ্যাম্বুল্যান্স উদ্বোধনের মতো বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাঁকে সম্মানজনকভাবে যুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. মুখোপাধ্যায় চিকিৎসা গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর মতে, হাসপাতাল পরিচালনার পাশাপাশি গবেষণার ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। রাজ্যে বহু মেধাবী তরুণ চিকিৎসক রয়েছেন, তাঁদের জন্য পৃথক গবেষণা-উইং গড়ে তুলে গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। এতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি যেমন ত্বরান্বিত হবে, তেমনই রোগী পরিষেবার মানও আরও উন্নত হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রবীণ এই চিকিৎসক। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও কিংবদন্তি চিকিৎসক ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের আদর্শের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়মিত অধ্যয়ন, গবেষণা এবং নিষ্ঠার মাধ্যমেই একজন চিকিৎসক প্রকৃত অর্থে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারেন। নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের সেই আদর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
পরে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কয়েকশো মেডিক্যাল পড়ুয়ার সঙ্গে মতবিনিময় করেন ডা. সুকুমার মুখোপাধ্যায়। ভবিষ্যতের চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চিকিৎসা শুধুমাত্র একটি পেশা নয়, এটি আজীবন শেখার একটি পথ। তাই রোগী দেখার পাশাপাশি গবেষণামুখী মানসিকতা গড়ে তোলার উপরও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।




















