রাজ্য – কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য ঘোষিত অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের কাজ ধাপে ধাপে এগোচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে কমিশন গঠনের ঘোষণা হওয়ার পর বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মচারী সংগঠন, পেনশনভোগী, সরকারি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে কমিশন। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্প্রতি কলকাতাতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, কর্মচারী সংগঠন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও প্রস্তাব সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে অনুষ্ঠিত এই ধরনের বৈঠক থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেই কমিশন কর্মচারীদের বেসিক বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সংক্রান্ত সুপারিশ তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আঞ্চলিক বৈঠকগুলিই ভবিষ্যৎ বেতন কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন রাজ্য সফরের পর পৃথক পৃথক রিপোর্ট তৈরি করে শেষ পর্যন্ত একটি চূড়ান্ত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দিতে পারে অষ্টম বেতন কমিশন। সেই চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২৭ সালের মধ্যে সরকারের কাছে পেশ করা হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এই সময়সীমা বা প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০.১৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৬৯ লক্ষ পেনশনভোগী অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশের অপেক্ষায় রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন কতটা বাড়বে, তা মূলত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করবে। উল্লেখ্য, সপ্তম বেতন কমিশনে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে অষ্টম বেতন কমিশনের ক্ষেত্রে এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কত হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।




















