রাজ্য – জেলার সরকারি হাসপাতালগুলিতে সদ্য যোগদান করা চিকিৎসকদের বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পক্ষে মত প্রকাশ করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর মতে, সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় মেধাবী তরুণ চিকিৎসকদের ধরে রাখতে হলে পেশাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। সেই কারণে নতুন চিকিৎসকদের মাসিক বেতন অন্তত ১ লক্ষ থেকে দেড় লক্ষ টাকার মধ্যে হওয়া উচিত বলেই মত তাঁর।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সদ্য ডাক্তারি পাশ করা এক তরুণ চিকিৎসককে জেলার হাসপাতালে যোগ দেওয়ার পর অনেক ধরনের বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাঁর বক্তব্য, অনেকেই ছোটবেলা থেকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বড় হয়ে সরকারি হাসপাতালে এসে সেই পরিবেশ পান না। একই বয়সের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের তুলনায় তাঁদের আয়ও অনেক কম থাকে। তাই সরকারি চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও আকর্ষণীয় করতে আর্থিক সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বাংলায় কংগ্রেস আমলে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের প্রচলন শুরু হয়েছিল। পরে বাম আমলে কিছু সময়ের জন্য তা নিয়ন্ত্রিত হলেও পরবর্তীকালে আবার সেই প্রবণতা বেড়ে যায়।
সরকারি হাসপাতালে সিনিয়র চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্যালাইন দেওয়ার পর কয়েকজন প্রসূতি অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও নতুন করে সেই বিতর্ক সামনে নিয়ে আসে। ওই ঘটনায় দু’জন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছিল। তখন অভিযোগ উঠেছিল, সিনিয়র চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে জুনিয়র চিকিৎসকদের ওপরই চিকিৎসার দায়িত্ব ছিল। যদিও সেই ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্ত হয়েছিল এবং বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হয়।
সম্প্রতি জেলার সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এবার সেই প্রবণতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হলে চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ এবং আর্থিক সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা জরুরি।




















