রাজ্য – অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সরকারি কাজ আরও সহজ এবং সুশৃঙ্খল করতে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার থেকে সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের পৃথক সিম কার্ডের খরচ বহন করবে রাজ্য। নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের তরফে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সরকারি অর্থে মোবাইল ফোন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকারি কাজের জন্য যোগাযোগ করতে গিয়ে তাঁদের নিজেদের ব্যক্তিগত সিম কার্ডই ব্যবহার করতে হচ্ছিল। ফলে সরকারি এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের মধ্যে আলাদা সীমারেখা রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। সেই সমস্যা দূর করতেই এবার সরকারি ব্যবহারের জন্য আলাদা সিম দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের নিজেদের উদ্যোগেই সিম কার্ড কিনতে হবে। সিম কেনার পর সংশ্লিষ্ট দফতরে বিল জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সেই খরচ পরে কর্মীদের ফেরত দেওয়া হবে। তবে একটি সিম কার্ড কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩১৯ টাকা পর্যন্ত খরচ অনুমোদন করা হয়েছে।
তবে এই সিম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু নিয়ম বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন। সরকারি নম্বরটি শুধুমাত্র অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সংক্রান্ত কাজেই ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এই নম্বর ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি এই নম্বর দিয়ে কোনও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
শুধু তাই নয়, সরকারি কাজের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন কোনও পরিষেবার OTP গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই নম্বর ব্যবহার করা যাবে না। অর্থাৎ সরকারি সিমটিকে সম্পূর্ণভাবে অফিসিয়াল কাজে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে নম্বরটির ব্যবহার নিয়ে ভবিষ্যতে কোনও বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।
প্রশাসনের তরফে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বাইরে সরকারি সিমের নম্বরটি স্পষ্টভাবে লিখে রাখতে হবে। এর ফলে প্রয়োজনের সময় সাধারণ মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা সহজেই ওই কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারবেন।
সরকারের এই উদ্যোগে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সরকারি যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নম্বরের উপর নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি সরকারি কাজের জন্য নির্দিষ্ট যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হওয়ায় প্রশাসনিক কাজ আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।



















