দুই সন্তানের পর আর নয়? জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কড়া আইনের ভাবনা রাজ্যে, নাবালিকা গর্ভধারণ ও প্রসূতিমৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্যভবনে উদ্বেগ

দুই সন্তানের পর আর নয়? জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কড়া আইনের ভাবনা রাজ্যে, নাবালিকা গর্ভধারণ ও প্রসূতিমৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্যভবনে উদ্বেগ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – প্রসূতি মৃত্যু কমাতে এবার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নাবালিকা গর্ভধারণ রুখতে কড়া পদক্ষেপের ভাবনা রাজ্য সরকারের। সম্প্রতি স্বাস্থ্যভবনে প্রসূতি মৃত্যু নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেই উঠে আসে, রাজ্যে প্রসূতি মৃত্যুর অন্যতম কারণ অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় গর্ভধারণ এবং একাধিকবার সন্তান প্রসবের ঝুঁকি।

স্বাস্থ্য দফতরের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে দাবি, সম্প্রতি রাজ্যের কয়েকটি জেলা থেকে অত্যন্ত বেশি সংখ্যক সন্তান প্রসবের সময় প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। এমনকী কোনও কোনও ক্ষেত্রে ১৩ বা ১৪ নম্বর সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়। এই পরিস্থিতিতে পরিবার পরিকল্পনা এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিয়ে আরও জোরদার প্রচারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, অল্প বয়সে গর্ভধারণ যেমন মা ও সন্তানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনই পরপর বহুবার সন্তান ধারণ করাও মায়ের স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের সুতি-১, সুতি-২ এবং শামসেরগঞ্জ এলাকায় এই প্রবণতা বেশি বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের কাছে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর পরামর্শ, পরিবারে দুটি সন্তান হয়ে গেলে স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত। সেখানে সরকারের তরফে বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের গর্ভনিরোধক পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। উদ্দেশ্য, অনিচ্ছাকৃত বা ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ কমানো এবং প্রসূতি ও নবজাতকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তবে দুটির বেশি সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে আইন করার যে বিষয়টি সামনে এসেছে, সেটি কীভাবে কার্যকর হবে, কারা এর আওতায় পড়বেন এবং কী ধরনের বিধি তৈরি হতে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা বিস্তারিত আইন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য নতুন নীতি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতরের মূল লক্ষ্য অবশ্য প্রসূতি মৃত্যু কমানো, নাবালিকা গর্ভধারণ রোধ করা এবং পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। এখন দেখার, এই লক্ষ্য পূরণে রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত কী ধরনের আইন বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top