বাবার মৃত্যুর বদলে বিশ্বমানের স্কুল চান হাফিজ! আর্থিক সাহায্য নয়, বাবার নামে স্কুল তৈরির দাবি বাঁকুড়ার তরুণের

বাবার মৃত্যুর বদলে বিশ্বমানের স্কুল চান হাফিজ! আর্থিক সাহায্য নয়, বাবার নামে স্কুল তৈরির দাবি বাঁকুড়ার তরুণের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে কাজ করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। কিন্তু সেই কাজের জেরেই যে বাবাকে হারাতে হবে, তা কখনও ভাবেননি বাঁকুড়ার ইন্দাসের তরুণ শেখ আবদুল হাফিজ। কয়েক দিন আগে করিশুন্ডা গ্রামে হাফিজের বাড়িতে দুষ্কৃতীদের হামলার সময় ছেলেকে বাঁচাতে সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর বাবা শেখ মাফিক। হামলাকারীদের মারধরে গুরুতর জখম হন পঞ্চাশোর্ধ্ব মাফিক। পরে বর্ধমানের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

বাবাকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হাফিজের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আর্থিক সাহায্যের পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে। কিন্তু সেই সাহায্য নিতে নারাজ তরুণ। তাঁর দাবি, সরকার যদি তাঁদের ক্ষতি পূরণ করতে চায়, তাহলে সেই অর্থ পরিবারের হাতে না দিয়ে বাংলার যে কোনও প্রান্তে তাঁর বাবার নামে একটি বিশ্বমানের স্কুল তৈরি করা হোক। সোমবার সংবাদমাধ্যমের সামনে হাফিজ স্পষ্ট করে জানান, তাঁদের আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন নেই। তাঁর বাবার নামে এমন একটি স্কুল তৈরি হোক, যেখানে প্রত্যেক পড়ুয়া বিনামূল্যে মানসম্মত শিক্ষা পাবে।

হাফিজের বক্তব্য, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যেই তাঁরা লড়াই শুরু করেছিলেন এবং সেই লড়াই এখনও শেষ হয়নি। বাবাকে হারানোর পরও সেই আদর্শ থেকে সরে যেতে চান না তিনি। একই দাবি জানিয়েছেন তাঁর মাও। পিতৃবিয়োগের গভীর শোকের মধ্যেও শিক্ষার প্রসারে এমন দৃঢ় অবস্থান ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে আলোড়ন তৈরি করেছে। বহু মানুষ হাফিজের বক্তব্যের প্রশংসা করে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন।

শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন হাফিজ। দেশের শিক্ষা পরিকাঠামো উন্নত করার দাবিতে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি নিজের গ্রামেও সেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ইন্দাসের স্থানীয় একটি প্রাথমিক স্কুলের বেহাল পরিকাঠামো নজরে আসার পর স্কুলের প্রধান শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ করে পরিস্থিতির উন্নতির চেষ্টা করেছিলেন হাফিজ।

তাঁর এই উদ্যোগের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠলেও, তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়া এখনও বাকি। এর মধ্যেই হাফিজের বাবার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সোমবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা-সহ প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ এবং এসএফআইয়ের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ময়ূখ বিশ্বাসও হাফিজের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানোর পরামর্শ দেন।

কিন্তু সেই প্রস্তাবের বদলে হাফিজের একটাই দাবি—বাবার নামে তৈরি হোক একটি বিশ্বমানের স্কুল, যেখানে আর্থিক সামর্থ্যের বাধা ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ পাবে সবাই। বাবাকে হারানোর যন্ত্রণার মধ্যেও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এই অঙ্গীকারই এখন তাঁকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top