রাজ্য – অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা না মেলায় রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ আরও তীব্র আকার নিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢোকায় বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ দেখান বঞ্চিত মহিলারা।
দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মহকুমাশাসকের কার্যালয়ের মূল গেট ঠেলে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন একদল উত্তেজিত মহিলা। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তারক্ষীরা ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপরও দরজায় ধাক্কা দিয়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যান বিক্ষোভকারীরা। খবর পেয়ে বালুরঘাট থানার আইসি বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বঞ্চিত মহিলাদের প্রশ্ন, গত তিন মাস ধরে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করার পরেও তাঁদের নাম কেন বাদ দেওয়া হল? যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁদের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা পৌঁছল না, সেই প্রশ্নেই প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন তাঁরা।
একই ছবি দেখা যায় মালদহের ইংরেজবাজার পুরসভাতেও। শত শত মহিলা পুরসভা চত্বরে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, আর্থিকভাবে সমস্যায় থাকা পরিবারগুলিকে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় একাধিক ঘর থাকা স্বাভাবিক হলেও, তিনটি ঘর থাকার কারণ দেখিয়ে অনেকের আবেদন বাতিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।
বিক্ষোভকারী মহিলাদের দাবি, প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাঁদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। পাশাপাশি আবেদন বাতিলের কারণও স্পষ্ট করতে হবে প্রশাসনকে।
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে একাধিক জেলায় এভাবে ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, বঞ্চিত মহিলাদের অভিযোগের পর প্রশাসনের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়।




















