গ্রামের বেহাল রাস্তা নিয়ে কড়া নবান্ন! গর্ত মেরামতে সময়সীমা, গাফিলতি ধরা পড়ল দফতরের পর্যালোচনায়

গ্রামের বেহাল রাস্তা নিয়ে কড়া নবান্ন! গর্ত মেরামতে সময়সীমা, গাফিলতি ধরা পড়ল দফতরের পর্যালোচনায়

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – গ্রামের রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর। বৃহস্পতিবার জারি করা এক নির্দেশিকায় রাজ্যের সমস্ত মুখ্য বাস্তুকার, ইঞ্জিনিয়ার, জেলা ও নির্বাহী বাস্তুকারদের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে গর্ত মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দ্রুত পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির অধীন বহু এলাকার রাস্তার দীর্ঘদিনের বেহাল দশা নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি এবং বন্যাসদৃশ পরিস্থিতির জেরে বহু রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সংবাদমাধ্যম এবং জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এই সমস্যার কথা বারবার দফতরের নজরে এসেছে বলেও নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

দফতরের পর্যালোচনায় রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্মাণের দায়িত্বে থাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট বা পিআইইউগুলির ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। পরিকল্পনা, তদারকি, চুক্তি ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে গুরুতর গাফিলতি ধরা পড়েছে বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।

পথশ্রী, আরআইডিএফ এবং স্টেট ফান্ড-সহ বিভিন্ন প্রকল্পে একাধিক রাস্তার কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত নগণ্য বা অসন্তোষজনক বলে পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ আটকে থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় দণ্ডমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

শুধু রাস্তা তৈরির কাজ নয়, নিয়মিত পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা আগেভাগে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও পিআইইউগুলির প্রস্তুতির অভাব ধরা পড়েছে। কোনও রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঠিকাদারের উপর থাকলেও সেই কাজ ঠিকমতো না হলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে সেই নিয়ম কার্যকর করা হয়নি বলেই দফতরের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।

এবার সেই গাফিলতি বন্ধ করতেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথায় রাস্তা ভেঙেছে, কোথায় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং কোন রাস্তা বৃষ্টিতে বা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—তা চিহ্নিত করে দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে।

দফতরের এই নির্দেশের ফলে গ্রামীণ সড়ক ব্যবস্থার হাল ফেরাতে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে রাস্তার কাজের গুণমান, ঠিকাদারদের দায়িত্ব এবং আধিকারিকদের নজরদারি—তিনটি ক্ষেত্রেই এবার থেকে আরও কড়া নজরদারি থাকবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top