হাওড়া – হাওড়া স্টেশনকে আরও আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করে তুলতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। বিমানবন্দরের ধাঁচে আন্তর্জাতিক মানের বাস ও ট্যাক্সি টার্মিনাল তৈরির পরিকল্পনা আগেই করা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এবার হাওড়া স্টেশন চত্বর ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। তাঁর সঙ্গে ছিলেন হাওড়া পুরসভার পুর কমিশনার তেজস্বী রানা-সহ পদস্থ আধিকারিকরা। পরিদর্শনের পর মন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নত, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই হাওড়া স্টেশন ও স্টেশন চত্বরকে আধুনিক মানের করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাওড়া স্টেশন চত্বরে গঙ্গার ঘাট থেকে দীঘা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত তৈরি হতে পারে আন্তর্জাতিক মানের বাস ও ট্যাক্সি টার্মিনাল। যাত্রীদের যাতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াতে কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য স্টেশন থেকে চলন্ত সিঁড়ি এবং স্কাইওয়াকের মাধ্যমে বাস ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে। দেশের আধুনিক বিমানবন্দরগুলিতে যেভাবে যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন পরিবহণ ব্যবস্থা এক ছাতার নিচে থাকে, হাওড়া স্টেশন ও বাস টার্মিনালকেও সেই ধাঁচে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রেল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি হাওড়া স্টেশন চত্বরের দীর্ঘদিনের নোংরা-আবর্জনা ও পরিকাঠামোগত সমস্যার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। স্টেশন ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, যাত্রীদের চলাচল আরও সহজ করা এবং গোটা এলাকাকে আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করাই এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। ফলে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে হাওড়া স্টেশন শুধু রেল যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রই নয়, আধুনিক বাস, ট্যাক্সি এবং অন্যান্য গণপরিবহণেরও একটি বড় হাব হয়ে উঠতে পারে।



















