রাজ্য – রাজ্যে ২৪৭টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজের পরিচালন সমিতি নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে। আর সেই পরিচালন সমিতির সভাপতি পদে বসানো হচ্ছে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদদের। কলকাতা থেকে কোচবিহার, বালুরঘাট থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা—ইতিমধ্যেই বিভিন্ন কলেজের দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপির একাধিক নেতা। জানা গিয়েছে, গত মে মাসে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলির পরিচালন সমিতি ভেঙে দিয়েছিল উচ্চশিক্ষা দফতর। এরপর সম্প্রতি নবান্নে ৪১টি দফতরের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পর থেকেই শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এবার উচ্চশিক্ষা দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে সেই পরিবর্তনের ছবিই সামনে এসেছে। ২০১৭ সালের আইন মেনে কলেজগুলির পরিচালন সমিতিতে শাসকদলের বিধায়ক ও সাংসদদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। এমনকী যে সব বিধানসভা এলাকায় বিরোধী বিধায়করা জয়ী হয়েছেন, সেখানেও পরিচালন সমিতির দায়িত্বে শাসকদলের নেতাদের বসানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কলকাতায় আশুতোষ কলেজের পরিচালন সমিতির দায়িত্ব পেয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। সুরেন্দ্রনাথ কলেজে রয়েছেন কৌস্তভ বাগচী। গুরুদাস কলেজের পরিচালন সমিতির দায়িত্বে রয়েছেন তরুণজ্যোতি তিওয়ারি এবং বিদ্যাসাগর কলেজের পরিচালন সমিতির মাথায় রয়েছেন তাপস রায়। সিটি কলেজের পরিচালন সমিতিতেও রয়েছেন কল্যাণ চক্রবর্তী। হাওড়ার বিজয় কৃষ্ণ গার্লস কলেজের সভাপতি হয়েছেন উমেশ রাই। উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের ঠাকুর পঞ্চানন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতিতে রয়েছেন রথীন্দ্র বোস। বঙ্গবাসী কলেজের পাশাপাশি বালুরঘাট কলেজ এবং গঙ্গারামপুর কলেজের পরিচালন সমিতির দায়িত্বে থাকছেন সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। অন্যদিকে ওন্দা থানা মহাবিদ্যালয় এবং রামানন্দ কলেজের পরিচালন সমিতির দায়িত্বে থাকছেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। ফলে ২৪৭টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজের পরিচালন সমিতি নতুন করে গঠনের সিদ্ধান্তে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক—দুই ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। কোন কলেজের পরিচালন সমিতিতে কে দায়িত্ব পেলেন, তা নিয়েও ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে শুরু হয়েছে চর্চা।



















