নয়াদিল্লি: দেশের যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমস্ত তথ্য ও পরিসংখ্যান ভালোভাবে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সূত্রের খবর, ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে আয়োজিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার দু’দিনের ‘চিন্তন শিবিরে’ মন্ত্রীদের এই বার্তা দেন তিনি। বৈঠকে মূলত প্রশাসনিক কাজের পর্যালোচনা, সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং আগামী দিনের অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।
সূত্রের দাবি, কোনও মন্ত্রীর বক্তব্যকে হাতিয়ার করে বিরোধীরা যাতে সরকারকে নিশানা করার সুযোগ না পায়, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—কোনও বিষয়ে মতামত জানানোর আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে মন্ত্রীদের সামনে আমলাদের পেশ করা পরিসংখ্যান কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি বলে জানা যাচ্ছে।
চিন্তন বৈঠকে সরকারি প্রকল্পের তথ্য যাচাইয়ের উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে পরিসংখ্যান যাচাই করার কথা বলেছেন মোদী। প্রকল্পের কাজ বাস্তবে কতটা এগিয়েছে, তার সঙ্গে নথিতে থাকা তথ্যের মিল রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন, জনসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে সমন্বয়ও বৈঠকের আলোচনায় ছিল।
পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও বিভাগের ওয়েবসাইটে লাইভ ড্যাশবোর্ড ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের অধীনে চলা প্রকল্প, কোন কোন রাজ্যে তা কার্যকর হচ্ছে, কত মানুষ সুবিধা পাচ্ছেন, প্রকল্পের অগ্রগতি, নির্ধারিত ব্যয় এবং সম্ভাব্য শেষ হওয়ার সময়সীমার মতো তথ্য তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে। নাগরিকদের মতামত ও অভিযোগ সরাসরি জানানোর ব্যবস্থাও রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের কাজ ও জনকল্যাণমূলক পরিষেবার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত নজরদারির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানা যাচ্ছে।



















