হলদিয়া
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে অবশেষে জেল থেকে মুক্তি পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার পর বুধবার হলদিয়া জেল থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। গ্রেপ্তারের ১৩ দিন পর জেলমুক্ত হয়ে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারে নামার কথা জানান মিলন।
জেল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুলিশি গ্রেপ্তারি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন মিলন প্রধান। তাঁর দাবি, তাঁকে চোখে গামছা বেঁধে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় তাঁর মনে হয়েছিল, তাঁকে হয়তো এনকাউন্টার করে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি মনোনয়ন প্রত্যাহার করার জন্যও তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এই অভিযোগগুলি মিলন প্রধানের বক্তব্য; পুলিশ এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। নন্দীগ্রাম আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন-সংক্রান্ত পুরনো একাধিক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। হাই কোর্টের নির্দেশে আপাতত ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি জেলের বাইরে থেকে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন। ২১ অক্টোবর তাঁকে সংশ্লিষ্ট ট্রায়াল কোর্টে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
মিলনের জামিন নিয়ে আইনি টানাপোড়েন অবশ্য এখনও শেষ হয়নি। হাই কোর্টের অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে রাজ্য। জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করা হলেও তা গ্রহণ করেনি শীর্ষ আদালত। আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। ফলে আপাতত হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মিলন প্রধান নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এদিকে হলদিয়া জেল থেকে বেরনোর পরই তাঁকে স্বাগত জানান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার-সহ দলীয় নেতা-কর্মীরা। মিলন জানান, বুধবার থেকেই নন্দীগ্রামে গিয়ে প্রচার শুরু করবেন তিনি। উপনির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে তাঁর জেলমুক্তিকে ঘিরে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সরগরম হয়ে উঠেছে।




















