কলকাতা
পুজোর আগেই কলকাতায় ফুটবল উৎসবের আবহ। একদিকে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলারদের শহরে আসার কাউন্টডাউন, অন্যদিকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এরই মধ্যে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের টিকিট নিয়ে সামনে এসেছে বিশেষ অফারের খবর। সূত্রের দাবি, অনলাইনে একটি টিকিটের দামেই দু’টি টিকিট পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই এই অফার চালু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। নির্দিষ্ট কুপন কোড ব্যবহার করেই এই সুবিধা নেওয়া যাচ্ছে বলে খবর। যদিও অফার নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
ব্রাজিল দল কলকাতায় পৌঁছনোর আগেই টিকিট বিক্রি নিয়ে কিছুটা আলোচনা তৈরি হয়েছে। কারণ, যুবভারতীর দর্শকাসন ৬০ হাজারেরও বেশি। তার তুলনায় টিকিটের দামও যথেষ্ট বেশি। ফলে গ্যালারি পূর্ণ করতে এই বিশেষ অফার কতটা কাজে আসে, সেটাই এখন নজরে। এখনও পর্যন্ত ঠিক কত টিকিট বিক্রি হয়েছে, সেই সংখ্যা প্রকাশ করেননি রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বা ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। তবে আয়োজকদের তরফে যুবভারতী দর্শকে পরিপূর্ণ থাকবে বলেই আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, স্পোর্টস সেক্রেটারি অবনীন্দ্র সিং, তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের সচিব সৌমিত্র মোহন, বিধাননগর কমিশনারেটের দেবর্ষি দত্ত এবং ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। ম্যাচকে সামনে রেখে যুবভারতীতে নতুন করে পরিকাঠামো সাজানো হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে নতুন ডাগআউট, পাশাপাশি গোলপোস্টের দু’দিকে বসানো হবে জায়ান্ট এলইডি স্ক্রিন।
এবার টিকিট ব্যবস্থাতেও থাকছে পরিবর্তন। অনলাইন ডিজিটাল টিকিটে নির্দিষ্ট সিট নম্বর থাকবে। এর ফলে দর্শকদের আসন খুঁজে পেতে সুবিধা হবে এবং টিকিট সংক্রান্ত অনিয়ম ঠেকানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। মঙ্গলবার স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন ব্রাজিল থেকে আসা প্রতিনিধিরা। প্রস্তুতি দেখে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
শুধু মাঠের পরিকাঠামো নয়, দর্শকদের পরিষেবার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। স্টেডিয়ামে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষ প্রয়োজনের দর্শকদের জন্য হুইলচেয়ারের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। পানীয় জল এবং খাবারের জন্য স্টেডিয়ামের ভিতরে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকবে। আয়োজকদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মানের ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলিই এবার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
আগামী ১ অক্টোবর কলকাতায় পৌঁছনোর কথা ব্রাজিল দলের। পরের দিন অর্থাৎ ২ অক্টোবর বিকেলে যুবভারতীতে অনুশীলনে নামবেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহারা। তার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ব্রাজিল দলের। ওই রাতেই রাজ্য সরকারের তরফে বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ব্রাজিল ও উরুগুয়ে দলের পাশাপাশি ভারতের পুরুষ ও মহিলা দল এবং রাশিয়ার মহিলা দলের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দলগুলির হাতে বিশেষ স্মারক তুলে দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।
ভারতীয় মহিলা দলের রাশিয়ার বিরুদ্ধে ৮ ও ১১ অক্টোবরের ম্যাচ নিয়েও বদল এসেছে। প্রথমে কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে ম্যাচগুলি হওয়ার কথা থাকলেও পরে সেগুলি যুবভারতীতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ৭ অক্টোবর আইএফএ শিল্ড ফাইনাল নিয়েও রয়েছে জটিলতা। ফাইনালে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে ডার্বি হলে যুবভারতী ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের উন্মাদনা শুধু কলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। জেলার ফুটবলপ্রেমীরাও যাতে বড় পর্দায় ম্যাচ দেখতে পারেন, সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন জায়গায় জায়ান্ট স্ক্রিন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেও তৈরি হবে ম্যাচ ঘিরে বিশেষ আবহ।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও থাকছে একাধিক স্তরের ব্যবস্থা। স্টেডিয়ামে ঢোকার সময় তিন ধাপে টিকিট পরীক্ষা করা হবে। প্রথমে মূল প্রবেশপথে, এরপর স্টেডিয়ামের ভিতরের অংশে এবং সবশেষে মূল গ্যালারিতে ঢোকার আগে ফের টিকিট যাচাই করা হবে। প্রত্যেকটি র্যাম্পে নম্বর এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা রাখা থাকবে, যাতে দর্শকদের কোনও বিভ্রান্তি না হয়।
পুলিশি নিরাপত্তাকে মূলত স্টেডিয়াম, মাঠ এবং ট্র্যাফিক—এই তিনটি ভাগে সাজানো হয়েছে। ম্যাচের দিন প্রায় ২০০০ পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকার কথা। স্টেডিয়ামে জল, খাবার, ছাতা কিংবা কোনও ধারালো বস্তু নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। টিফো, ফেস্টুন বা পোস্টার নিয়েও দর্শকদের ঢুকতে দেওয়া হবে না। তবে স্টেডিয়ামের ভিতরেই পানীয় জল এবং খাবারের ব্যবস্থা থাকবে।
ব্রাজিল, উরুগুয়ে এবং ভারত—প্রত্যেক দলের সঙ্গে একজন করে নোডাল অফিসার থাকবেন। দলগুলির যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য সিনিয়র আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিকদেরও দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। অতীতের বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থাৎ, ব্রাজিলের তারকা ফুটবলারদের কলকাতায় আগমন থেকে শুরু করে যুবভারতীর গ্যালারি, টিকিট, নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামো—সব দিকেই এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। পুজোর ঠিক আগে কলকাতায় ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে যে ফুটবল আবহ তৈরি হয়েছে, তাতে বিশেষ টিকিট অফার দর্শকদের কতটা মাঠমুখী করে, এখন সেদিকেই নজর।




















