নয়াদিল্লি
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি ছাড়া একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব চেয়েছে শীর্ষ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে, নির্বাচন কমিশনের কোনও সিদ্ধান্ত আইনসঙ্গত না হলে কিংবা কমিশনের নির্ধারিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া মেনে নেওয়া না হলে আদালত প্রয়োজনে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারে। তবে এই পর্যায়ে SIR স্থগিত করার কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
শুনানিতে SIR সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত তিন সদস্যের কমিশনের সম্মতিতে নেওয়া হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও ওঠে। মামলাকারীদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের আগস্টের মধ্যে SIR সংক্রান্ত ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর আপত্তি সত্ত্বেও নেওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
মামলাকারী রাকেশ কুমার সিংয়ের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশ সিং। তাঁর অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এককভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি শুনানি চলাকালীন জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে রাখার অন্তর্বর্তী নির্দেশও চাওয়া হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই পর্যায়ে সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি। আগে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য শুনতে চেয়েছে আদালত।
শুনানিতে Form 6 নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠে। নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত এই ফর্মের পরিবর্তিত সংস্করণ নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে দেন, সুপ্রিম কোর্ট কোনও সংশোধিত Form 6 অনুমোদন করেনি। আদালত রেকর্ড দেখে জানতে চায়, ফর্মে পরিবর্তনটি কে করেছিলেন এবং তার অনুমোদনের প্রক্রিয়াই বা কী ছিল।
অন্যদিকে, SIR সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি এককভাবে নেওয়া হয়েছিল বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের তরফে এই অভিযোগের বিরোধিতা করা হয়েছে এবং SIR সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ছিল বলেও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ফলে পরবর্তী শুনানিতে কমিশনের জমা দেওয়া নথি, বৈঠকের রেকর্ড এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার পরই বিষয়টি নিয়ে আদালতের অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।
এদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নোটিস পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনকে এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব জমা দিতে বলা হয়েছে। ফলে SIR এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে এই মামলার পরবর্তী শুনানি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




















