স্থান: কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
মতাদর্শের লড়াইয়ের পাশাপাশি এবারের দুর্গাপুজোয় বই বিক্রি নিয়েও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা দেখা গিয়েছে। বিভিন্ন পুজোমণ্ডপের আশপাশে বামেদের বইয়ের স্টলে ভাঙচুর এবং বুলডোজার পৌঁছে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই আবহে বিজেপি ও বামেদের বই বিক্রির পরিমাণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়। এবার বিজেপির দাবি, পুজোয় তাদের বইয়ের স্টল থেকে ৩ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বই বিক্রি হয়েছে।
দ্বাদশী পর্যন্ত সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে পৌঁছনো হিসাবের ভিত্তিতে এই দাবি করেছে দল। রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি তথা পুজোয় বইয়ের স্টল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অমিতাভ রায় জানান, এবারের পুজোয় বিজেপির বই বিক্রির অঙ্ক ৩ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
অমিতাভ রায়ের বক্তব্য, প্রথমে রাজ্যজুড়ে প্রায় এক হাজার বইয়ের স্টল তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু পুজোর আগে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সেই সংখ্যা অনেকটাই বাড়ানো হয়। তাঁর দাবি, ছোট-বড় মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার স্টল তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে কলকাতায় ছিল প্রায় ২০০টি স্টল। বইয়ের স্টল তৈরিতে যুব সমাজ এবং বিজেপির বিভিন্ন মণ্ডলের সদস্যদের বিশেষ উৎসাহ দেখা গিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
তবে বই বিক্রির এই পরিসংখ্যানের হিসাব কীভাবে করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিজেপির তরফে যে অঙ্ক প্রকাশ করা হয়েছে, তা সাধারণ পাঠকদের হাতে বই পৌঁছে দিয়ে স্টল থেকে বাস্তবে কত টাকা আদায় হয়েছে, তার চূড়ান্ত হিসাব নয়। বরং বিভিন্ন জেলা ও সংগঠন বইয়ের স্টল চালানোর জন্য কেন্দ্রীয় সংগঠনের কাছ থেকে যে বই নিয়েছে এবং তার দাম বাবদ যে টাকা জমা দিয়েছে, সেই অঙ্ককেই বিক্রির পরিমাণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
অর্থাৎ, বিজেপির প্রকাশ করা হিসাব অনুযায়ী বই সরবরাহ ও তার মূল্য বাবদ জমা পড়া অর্থের অঙ্ক সামনে এসেছে। কিন্তু পুজোর দিনগুলিতে সাধারণ মানুষ স্টল থেকে ঠিক কত টাকার বই কিনেছেন, তার পৃথক হিসাব এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিজেপির বই বিক্রির দাবির পাশাপাশি প্রকৃত খুচরো বিক্রির পরিমাণ জানার অপেক্ষাও থাকছে।




















