কলকাতা: মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকতে পারে জীবন। একজন মানুষের অঙ্গদানে প্রাণ ফিরে পেতে পারেন একাধিক মরণাপন্ন রোগী। অঙ্গদানের এই মহৎ ভাবনাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর। পড়ুয়াদের মাধ্যমে অঙ্গদানের গুরুত্ব ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের ‘যুগ যুগ জিও অভিযান’-কে সামনে রেখেই এই উদ্যোগ। গত ৩ আগস্ট দেশের ১৬তম ভারতীয় অঙ্গদান দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশন (NOTTO)-এর উদ্যোগে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই রাজ্যের স্কুলগুলিতে অঙ্গদান নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্কুল শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকারপোষিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। শুধু স্কুলই নয়, শিক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন প্রশাসনিক কেন্দ্রেও এই কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের ডিআই-দের কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে। পড়ুয়াদের মধ্যে অঙ্গদানের প্রয়োজনীয়তা, গুরুত্ব এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রশাসনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু পড়ুয়ারাই নয়, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং বৃহত্তর সমাজের মধ্যেও অঙ্গদান নিয়ে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মৃত্যুর পরেও অন্যের শরীরে বেঁচে থাকার এই বার্তা কতটা মানুষের কাছে পৌঁছয়, এখন সেটাই দেখার।




















