সিউড়ি
বীরভূমের সিউড়িতে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে বুধবার ঘটে গেল নজিরবিহীন ভাঙচুরের ঘটনা। পার্টি অফিসের ভিতরে বসেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। সেই সময়ই লাঠি ও গাছের ডাল হাতে কয়েকজন যুবক কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ। অনুব্রতকে সামনে রেখেই অফিসের চেয়ার-টেবিল, কাচের টেবিল-সহ একাধিক আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। তাঁকে সরাসরি আঙুল তুলে শাসানি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনার সময় অনুব্রত মণ্ডল ওই ঘরেই বসেছিলেন। হামলাকারীদের একজন তাঁর জামার কলার ধরে প্রশ্ন করেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মুখে গত ১৫ বছরে বীরভূমে অনুব্রতের ভূমিকা নিয়ে নানা অভিযোগ শোনা যায়। অনুব্রত তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং কথা শোনার অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
অভিযোগ, অনুব্রতের সামনের টেবিলেও লাঠি বা গাছের ডাল দিয়ে আঘাত করা হয়। তাতে কাচ ভেঙে ছিটকে আসে। অফিসের অন্যান্য আসবাবপত্রের পাশাপাশি এসি-সহ আরও কিছু জিনিসেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে খবর। গোটা ঘটনায় কার্যালয়ের ভিতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজন যুবককে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই হামলা এবং হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় কী, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশ ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।
বীরভূমের রাজনীতিতে একসময় অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। সেই অনুব্রতকে সামনে রেখেই সিউড়ির দলীয় কার্যালয়ে এই ভাঙচুরের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনাটির পর অনুব্রত পুলিশি নিরাপত্তায় কার্যালয় ছেড়ে বেরিয়ে যান বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।




















