‘আমার ভাষা, আমার গর্ব’, বিতর্কের মাঝেই বীরভূমের আঞ্চলিক ভাষার পক্ষে সওয়াল জগন্নাথের

‘আমার ভাষা, আমার গর্ব’, বিতর্কের মাঝেই বীরভূমের আঞ্চলিক ভাষার পক্ষে সওয়াল জগন্নাথের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – নিজের মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জবাবে স্পষ্ট অবস্থান নিলেন সিউড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সোমবার বোলপুরের কাছে কংকালীতলায় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার ভাষা, আমার গর্ব। আমি বীরভূমের আঞ্চলিক ভাষাতেই কথা বলব।”

সম্প্রতি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “কলেজে এবং বিশ্ববিদ্যালয় টাকা তুললে স্যাটা গরম করে দেব।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিভিন্ন মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

সেই বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, তিনি বীরভূমের মানুষ এবং নিজের জেলার ভাষাতেই কথা বলবেন। তাঁর কথায়, “আমি বীরভূমের ছেলে। নিজের ভাষাতেই কথা বলব। তাতে কারও পছন্দ হোক বা না হোক, বীরভূমের ভাষায় কথা বলা বন্ধ হবে না। আমি যে জেলার মানুষ, সেই জেলার কিছু শব্দ আমার মুখে আসতেই পারে।”

মন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের কী বলা উচিত, কী খাওয়া উচিত, কী পরা উচিত বা কী করা উচিত, তা নির্ধারণ করার অধিকার কারও নেই। তাহলে তাঁর ভাষা নিয়ে এত আপত্তি কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

আঞ্চলিক বীরভূমের ভাষাতেই তিনি বলেন, “সামান্য দুটি শব্দ বলেছি অমনি গুঁতিয়ে দিছেন, খেদিয়ে দিছেন। এ মানব না। আপনাদের কথা ভবিষ্যতেও লড়ব। এখনও লড়ছি। আমি যে জেলার, সেই জেলার দুটো-একটো কথা মুখ দিয়ে বেরবে।”

জগন্নাথের দাবি, তাঁর ভাষারও সম্মান রয়েছে। যাঁরা আঞ্চলিক ভাষা না বুঝে সমালোচনা করছেন, তাঁরা আসলে রাঢ়বঙ্গের ভাষা ও সংস্কৃতিকেই অপমান করছেন। তিনি বলেন, “আমি তো নিজের ভাষায় কথা বলছি। আমার ভাষার দাম নাই? আমার ভাষার সম্মান নাই? আমার মুখ দিয়ে বীরভূমের ভাষা বেরবেই। এটাই আমার মাতৃভাষা।”

উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ বহুবার সামনে এসেছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়েই ওই মন্তব্য করেছিলেন বলে জানান মন্ত্রী। তাঁর দাবি, ভর্তি-অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিতেই তিনি ওই ভাষা ব্যবহার করেছিলেন।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top