রাজ্য – দীর্ঘদিন ধরে আইনি জট এবং দুর্নীতির অভিযোগে আটকে থাকা শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা হওয়ার পরপরই সামনে এল গুরুত্বপূর্ণ আপডেট। ২০১৬ সালের বিতর্কিত শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআর শিট অবশেষে ওয়েবসাইটে আপলোড করল স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি।
শুক্রবার এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল কমিশন। আর শনিবার শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে চাকরিপ্রার্থী এবং আন্দোলনকারীদের অন্যতম বড় দাবি ছিল ওএমআর শিট প্রকাশ করা। অবশেষে সেই দাবিতেই সাড়া দিল কমিশন।
জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সিবিআইয়ের কাছ থেকে পাওয়া হার্ড ডিস্কের তথ্যের ভিত্তিতে এই ওএমআর শিট প্রকাশ করা হয়েছে। আপাতত নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির লেভেল এসএলএসটি (এটি) পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিট প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০১৬ সালের তৃতীয় আরএলএসটি (এনটি)-র গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের ওএমআর শিটও খুব শীঘ্রই আপলোড করা হবে।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে আসা শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, নতুন সরকার যেন যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সম্মানের সঙ্গে পুনর্বহাল করে। তাঁর মতে, একজন নিরপরাধও যাতে শাস্তি না পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল হওয়ার জেরে ২৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী চাকরি হারান। এরপর থেকেই ওএমআর শিট প্রকাশের দাবি জোরালো হয়। অভিযোগ উঠেছিল, বহু ওএমআর শিট নষ্ট করে ফেলা হয়েছে বা তাতে কারচুপি করা হয়েছে।
২০২৪ সালেই কলকাতা হাইকোর্ট ২২ লক্ষ ওএমআর শিট প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ এতদিন কার্যকর করেনি কমিশন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই সেই নির্দেশ বাস্তবায়িত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। এসএসসি নন-টিচিং স্টাফ ঐক্য মঞ্চের সদস্য অমিত মণ্ডলের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পরই কমিশন হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে গত বছর হাইকোর্টের নির্দেশে ১৯ হাজার যোগ্য চাকরিপ্রার্থীকে চিহ্নিত করে নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছিল এসএসসি। পুনরায় পরীক্ষাও নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ২০১৬ সালের বহু ‘যোগ্য’ প্রার্থীই নতুন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে নতুন করে বিতর্ক ও অসন্তোষ তৈরি হয়। এদিনের নির্দেশিকার পর অনেকের মতে, দ্বিতীয় লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের গুরুত্ব কার্যত কমে গেল।
রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলের মতে, ওএমআর শিট প্রকাশের এই সিদ্ধান্ত নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত এবং যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।



















