নদিয়া – সোদপুর স্টেশনে রেলের সম্ভাব্য উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে বুধবার রাতভর উত্তেজনা ছড়াল। জেলার বিভিন্ন স্টেশনে ‘অবৈধ দখল’ উচ্ছেদের নোটিশ জারি করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। সেই তালিকায় রয়েছে সোদপুর স্টেশনও। আগেই সেখানে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হতে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্টেশনের অস্থায়ী দোকানদার ও হকারদের মধ্যে।
দীর্ঘদিন ধরে সোদপুর স্টেশন চত্বরে ছোট ছোট দোকান চালিয়ে সংসার টিকিয়ে রেখেছেন বহু পরিবার। উচ্ছেদের আশঙ্কায় নিজেদের শেষ সম্বল বাঁচাতে বুধবার রাতভর স্টেশন চত্বরে জেগে থাকলেন প্রায় দেড়শোর বেশি হকার ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই চলে রাতভর পাহারা। উৎকণ্ঠার মধ্যেই সেখানেই রাত কাটান তাঁরা।
শুধু হকাররাই নন, তাঁদের পাশে দাঁড়াতে রাত জেগে থাকতে দেখা যায় বাম নেতৃত্বকেও। উপস্থিত ছিলেন বাম নেত্রী গার্গী চ্যাটার্জি, পানিহাটি কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত-সহ একাধিক বাম কর্মী-সমর্থক। হকারদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তাঁরা।
রাতের নিস্তব্ধ সোদপুর স্টেশন যেন অন্য এক চিত্রের সাক্ষী থাকল। সারারাত উৎকণ্ঠায় কাটানোর পর সকাল হতেই কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন হকাররা। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা এখনও কাটেনি। বহু হকারের বক্তব্য, এই দোকানই তাঁদের একমাত্র রুজিরুটি। দোকান চলে গেলে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। সন্তানদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে পরিবারের সমস্ত খরচ নির্ভর করে এই ছোট ব্যবসার উপরই।
এদিন সিপিআইএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলেন, “গরিব মানুষের পেটে লাথি মেরে কোনও সরকার চলতে পারে না। যারা দীর্ঘদিন ধরে সৎভাবে হকারি করে সংসার চালাচ্ছেন, তাঁদের এভাবে উচ্ছেদ করা অন্যায়। এঁরা কোনও চুরি করেননি। রাতের অন্ধকারে উচ্ছেদের চেষ্টা আসলে বিজেপির চক্রান্ত।”
তাঁর অভিযোগ, রেলকে আরও বেসরকারিকরণের লক্ষ্যে স্টেশন পরিষ্কারের নামে হকার উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “যাঁরা হকারি করে সংসার চালান, ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা করান, তাঁদের বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা মানবিক নয়। তাই হকাররা রাত জেগে পাহারা দিয়েছেন। প্রয়োজন হলে আগামী দিনেও একইভাবে আন্দোলন চলবে।”
যদিও বৃহস্পতিবার সকালে রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার পর হকারদের জানানো হয়, আপাতত উচ্ছেদ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। তবুও অনিশ্চয়তা কাটছে না হকারদের মধ্যে। এদিন কলতান দাশগুপ্ত জানান, শুধু সোদপুর নয়, জেলার অন্যান্য স্টেশনেও হকারদের পাশে থাকবে বাম নেতৃত্ব। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া কোনওভাবেই হকার উচ্ছেদ মেনে নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।




















